স্ট্রাইকার জনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে বিশ্বকাপের মূল পর্বে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে কানাডা। বাংলাদেশ সময় আজ ভোর রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৯ জনের কাতারকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে সহ-আয়োজক দেশটি নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনাও অনেকটা উজ্জ্বল করেছে।

তবে বড় জয়ের আনন্দের মাঝেও কানাডা শিবিরে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনের গুরুতর চোট। দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে কানাডা। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে, ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে কাতার। আগামী বুধবার ভ্যাঙ্কুভারে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কানাডা।

লাল-সাদা পোশাকের দর্শকদের উচ্ছ্বসিত সমর্থনে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে কানাডাকে এগিয়ে দেন সাইল লারিন। এর আগে জনাথন ডেভিডের শট ঠেকিয়ে দেয় গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা। কিন্তু ফিরতি বলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জালে বল পাঠান সাইল।

১৩ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেভিড। একটি ক্রসে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে কানাডাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় কাতারের বিপক্ষে। তাজন বুকানানের ওপর এল আমিনের ফাউলের ঘটনায় প্রথমে পেনাল্টি দেয়া হলেও ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায় অপরাধটি বক্সের বাইরে হয়েছিল। ফলে সিদ্ধান্ত ফ্রি-কিকে পরিবর্তন করা হয় এবং হোমাম আহমেদের হলুদ কার্ড লাল কার্ডে উন্নীত হয়। ১০ জনের দলে পরিণত হয় কাতার।

বিরতির ঠিক আগে লারিনের হেডার ঠেকালেও ফিরতি বলে কাছ থেকে গোল করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডেভিড। ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া কাতারের সামনে তখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।

দ্বিতীয়ার্ধে আরো বড় ধাক্কা খায় কাতার। আসিম মাদিবোর একটি ট্যাকলের পর ইসমাইল কোনে আহত হয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন। পরে তাকে বাম পায়ে বড় সুরক্ষামূলক বুট পরা অবস্থায় দর্শকদের দিকে হাত নাড়তে দেখা যায়। ওই ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মাদিবোকেও লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার।

কোনের বদলি হিসেবে নামা নাথান সালিবা ফ্রি-কিক থেকে কানাডার চতুর্থ গোল করেন এবং উদ্‌যাপনের সময় কোনের জার্সি তুলে ধরে তাকে উৎসর্গ করেন গোলটি। এরপর কাতারের দুর্দশা আরো বাড়ে, যখন মিডফিল্ডার মোহাম্মদ মান্নাই আত্মঘাতী গোল করেন। যোগ করা সময়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে কানাডার ৬-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন ডেভিড।

ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেন, ‘আমরা এমন ফুটবল খেলতে চেয়েছিলাম যা দর্শকদের উজ্জীবিত করবে। আমাদের প্রতিভা ও মানসিকতার পরিচয় দিতে চেয়েছি। ইসমাইল ঠিক হয়ে যাবে। সে আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’

অন্যদিকে কাতার কোচ হুলেন লোপেতেগি বলেন, ‘দুটি লাল কার্ড পাওয়ায় পরের ম্যাচে কয়েকজন খেলোয়াড়কে পাব না। তবে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।’