আগামী বছর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ ভারত ও শ্রীলংকায় বসছে ছেলেদের দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসর। এবারের আসরে অংশ নেবে মোট ২০টি দল। এ ২০ দল চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশ খেলবে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও নবাগত ইতালির বিপক্ষে। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচের তিনটিই খেলবে অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী ভারতের কলকাতা শহরে। বাকি ম্যাচটি তারা খেলবে মুম্বাইতে। কলকাতায় তিনটি ম্যাচ খেলায় নিশ্চিতভাবেই দর্শক সমর্থন বেশি পাবে টাইগাররা।
৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অবশ্য উদ্বোধনী ম্যাচটি খেলবে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। কলম্বোয় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টায়। এরপর বেলা সাড়ে ৩টায় দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রথম দিন মাঠে নামছে অন্যতম স্বাগতিক ভারতও। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
একদিন বিরতি দিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে নবাগত ইতালির মুখোমুখি হবেন লিটন দাস, সাইফ হাসানরা। ১৪ ফেব্রুয়ারি ইডেনে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে লাল-সবুজদের প্রতিপক্ষ দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
এরপর এশিয়ার দেশ নেপালের বিপক্ষে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলতে মুম্বাই যাবে বাংলাদেশ দল। ১৪ ফেব্রুয়ারি ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে অলসাউথ এশিয়ান লড়াই।
প্রায় প্রতিটি আইসিসি ইভেন্টের মতো এবারো একই গ্রুপে পড়েছে দুই চিরবৈরী দেশ ভারত ও পাকিস্তান। বৈশ্বিক আসরে ফলগুলো একপেশেভাবে ভারতের পক্ষেই যাচ্ছে। এর পরও এ দুই দেশের লড়াই নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের তুমুল আগ্রহ। দুটি দেশ একই গ্রুপে পড়ায় আইসিসিও নিশ্চয়ই খুশি। কেননা, ভারত-পাকিস্তান লড়াই থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করার সুযোগ থাকে আইসিসির। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান।
দুটি দল এর আগেই দুটি করে ম্যাচ খেলবে। পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচই খেলবে কলম্বোয়। ৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। ম্যাচটি হবে কলম্বোয় বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টায়। এছাড়া শ্রীলংকার রাজধানীতে ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলবেন সালমান আগা, শাহিন শাহ আফ্রিদিরা। এছাড়া ভারত ৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ১২ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ও ১৮ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে।
‘বি’ গ্রুপে লড়বে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলংকা ছাড়াও জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ওমান এবং ‘ডি’ গ্রুপে লড়বে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান, কানাডা ও আরব আমিরাত। একমাত্র ‘ডি’ গ্রুপেই কোনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নেই। নিউজিল্যান্ড ২০২১ ও দক্ষিণ আফ্রিকা সর্বশেষ ২০২৪ সালের আসরে রানার্সআপ হয়। একই আসরে সেমিফাইনাল খেলেছে আফগানিস্তান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগের প্রতিটি আসরেই অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের আসরে বাংলাদেশ ছিল আয়োজক। সেরা ফল ২০২৪ আসরে সপ্তম স্থান। ২০০৭ সালের অভিষেক আসরে সুপার এইট পর্বে খেলেছে বাংলাদেশ। নয় আসরে ৪৪ ম্যাচ খেলে ৩১টি হারের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ১২টি।
বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তিন ম্যাচ খেলে একটি, নেপালের সঙ্গে দুই ম্যাচে দুটি জয় পেলেও ইংল্যান্ডের সঙ্গে এক ম্যাচ খেলে হেরেছে বাংলাদেশ। আর ইতালির সঙ্গে প্রথম কোনো ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে লাল-সবুজরা।
গ্রুপ পর্ব শেষে রয়েছে সুপার এইটের লড়াই। চার গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল উঠে যাবে সুপার এইটে। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। ৪ ও ৫ মার্চ দুটি সেমিফাইনাল যথাক্রমে কলকাতা ও মুম্বাইতে। আর ৮ মার্চ আহমেদাবাদে ফাইনাল। তবে পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠলে ভেন্যু হবে কলম্বো, আর পাকিস্তান ফাইনালে উঠলেও ভেন্যু আহমেদাবাদ থেকে চলে যাবে কলম্বোয়।
৫৫ ম্যাচের এ আসরে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৩০ লাখ ডলার প্রাইজমানি, যা গত আসরে ছিল ২৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া রানার্সআপ দল ১৬ লাখ ডলার, সেমিফাইনালে পরাজিত দল ৯ লাখ ৬০ হাজার, পঞ্চম থেকে ১২তম স্থানধারী দল ৪ লাখ ৫০ হাজার ও ন্যূনতম অংশগ্রহণ ফি ৩ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে এবারের আসরে ১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার প্রাইজমানি দেয়া হবে, যা ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আসরে ছিল ১ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ৩ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য আইসিসির।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগের নয় আসরের মধ্যে দুবার করে শিরোপা জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও ইংল্যান্ড। এছাড়া একবার করে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁদিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সূর্যকুমার যাদবের দল ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে এবার কি পারবে মুকুট ধরে রাখতে?









