কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই যেন মাঠে উপস্থিত হতে ভুলে গেল লে ব্লুজ। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান ডেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলার মতো তারকারা ছিলেন প্রায় অদৃশ্য। প্রথম ৮০ মিনিটে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে না পারা ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে।

শুরুটা খুব খারাপ ছিল না ফরাসিদের। বলের দখলে তারা আধিপত্য বিস্তার করতে না পারলেও স্পেনকেও বড় কোনো সুযোগ দিচ্ছিল না। কিন্তু ২১তম মিনিটে সবকিছু বদলে দেন লুকাস দিনিয়ে। বক্সের মধ্যে লামিনে ইয়ামালকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে লাথি মেরে স্পেনকে পেনাল্টি উপহার দেন তিনি। স্পট কিক থেকে মিকেল ওয়ারজাবাল গোল করলে এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবার পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স।

গোল হজমের পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার মতো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেনি দেশমের দল। এমবাপ্পে, ডেম্বেলে, ওলিসে কিংবা বারকোলা—যে-ই স্পেনের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করেছেন, প্রতিবারই তাদের সামনে প্রস্তুত ছিল উত্তর। দুই-তিনজন খেলোয়াড় একসঙ্গে ঘিরে ধরে ফরাসি আক্রমণভাগের জায়গা ও সময় দুটোই কেড়ে নেয়। বিপরীতে স্পেনের দ্রুত পাস ও মুভমেন্ট সামলাতে বারবার হিমশিম খেয়েছে ফরাসি রক্ষণ।

প্রথমার্ধেই কয়েকবার সতর্কবার্তা দিয়েছিল স্পেন। কিন্তু সেখান থেকে শিক্ষা নেয়নি ফ্রান্স। বিরতির পরও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমোর পাসে পেদ্রো পোরোকে আটকাতে ভুল সময়ে সামনে এগিয়ে যান বদলি ডিফেন্ডার ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া। সেই ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে সহজেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পোরো।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও হতাশ করেছেন ফরাসি তারকারা। এমবাপ্পে পুরো ম্যাচে কার্যকর কিছু তৈরি করতে পারেননি; তার মাত্র একটি শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। ডেম্বেলে ছিলেন বলের দখলে অগোছালো, ওলিসে স্প্যানিশ রক্ষণের ফাঁক খুঁজে পাননি, আর বারকোলার আক্রমণ প্রায় প্রতিবারই শেষ হয়েছে কোনো ফল ছাড়াই। মাঝমাঠে অরেলিয়েন চুয়ামেনি কিছুটা লড়াই করলেও আদ্রিয়েন রাবিও শুরুতেই হলুদ কার্ড দেখে ছন্দ হারান। দিনিয়ে ছিলেন ফ্রান্সের সবচেয়ে দুর্বল খেলোয়াড়—পেনাল্টি উপহার দেয়ার পাশাপাশি স্পেনকে আরো কয়েকটি সুযোগ দেন তিনি।

২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও যে ফ্রান্স অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করেছিল, এবার তার কোনো পুনরাবৃত্তি হয়নি। বরং সংগঠিত, প্রাণবন্ত ও নিয়ন্ত্রিত স্পেনের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে দেশমের দল।