বিশ্বকাপের মঞ্চে ৭-১ স্কোরলাইন শুনলেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে ২০১৪ সালের সেই ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল। ওই ম্যাচে জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল স্বাগতিক ব্রাজিল। ১২ বছর পর আবারো একই ব্যবধানে জিতল জার্মানি। তবে এবার প্রতিপক্ষ ছিল বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া ক্ষুদ্র ক্যারিবীয় দ্বীপ দেশ কুরাসাও।
গতকাল দিবাগত রাতে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৭-১ ব্যবধানে জয়ের বিরল তালিকায় নিজেদের নাম দ্বিতীয়বারের মতো লেখাল জার্মানি। আর ব্রাজিলের সমর্থকদের কাছে হয়তো এই ফলাফল ফিরিয়ে আনল ২০১৪ সালের তিক্ত স্মৃতি—যা ফুটবল অভিধানে ‘সেভেন আপ’ নামেই বেশি পরিচিত।
ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই ফেলিক্স এনমেচার গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। তবে শুরুতে চমক দেখায় কুরাসাও। ২১ মিনিটে লিভানো কোমেনেন্সিয়া গোল করে সমতা ফেরান। সেটাই বিশ্বকাপ ইতিহাসে কুরাসাওয়ের প্রথম গোল।
কিন্তু ওই গোল যেন জার্মানদের আরো ক্ষুধার্ত করে তোলে। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ইউরোপের শীর্ষ দলটি। বল দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি সব ক্ষেত্রেই আধিপত্য দেখিয়ে একের পর এক গোল করতে থাকে তারা। সাত গোলের মধ্যে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের নাম ওঠে স্কোরশিটে, যা দলগত শক্তিরই প্রমাণ।
তবে বড় ব্যবধানে হারলেও কুরাসাও প্রশংসা কুড়িয়েছে তাদের লড়াকু মানসিকতার জন্য। মাত্র প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যা দেশটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে আগেই নজর কেড়েছিল। জার্মানির বিপক্ষে ৭ গোল হজম করার পরও তারা রক্ষণাত্মক হয়ে যায়নি; বরং সুযোগ পেলেই আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৭-১ ব্যবধানের ম্যাচ হয়েছে মাত্র চারটি। ১৯৩৪ সালে ইতালি ৭-১ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে, ১৯৫০ সালে ব্রাজিল একই ব্যবধানে সুইডেনকে। এরপর ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে জার্মানি।
ব্রাজিল নয়, প্রতিপক্ষ ছিল কুরাসাও। তবু ৭-১ স্কোরলাইনটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এতটাই প্রতীকী যে জার্মানির এই জয় অনিবার্যভাবেই ফিরিয়ে এনেছে বারো বছর আগের বেলো হরিজন্তের সেই রাতের স্মৃতি। ১২ বছর পর বিশ্বকাপে আবারো ‘সেভেন আপ’ লিখল জার্মানি।














