শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নেয়া আধুনিকায়ন প্রকল্প আটকে আছে অর্থ সংকটে। ২০২৩ সালের মধ্যে এই আধুনিকায়নের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক মানে রূপ নেবে স্টেডিয়ামটি। কিন্তু হঠাৎ অর্থ সংকটে সেই প্রত্যাশায় ভাটা পড়েছে। চলমান কর্মযজ্ঞে
এখন অনেকটা স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। কবে নাগাদ কাজ শেষ করা যাবে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
যদিও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার বলেছেন, অর্থের যে সমস্যা চলছে তা সাময়িক। এ বিষয়ে ক্রীড়া সচিব স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং সম্প্র্রতি তার বরিশাল সফরকালে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজে অর্থ সংকট হবে না। সব মিলিয়ে কাজ নির্দিষ্ট সময়ের একটু বিলম্বে শেষ হতে পারে। তবে তা অতটা দীর্ঘায়িত হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, ঢিমেতালে চলছে নির্মাণকাজ। হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাজ করছেন স্টেডিয়ামের বাইরের অংশে। শ্রমিকরা জানান, স্টেডিয়ামের ভেতরের কাজ বন্ধ রয়েছে। তাই শ্রমিকরা আসেননি। দেখা মেলেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে। সব মিলিয়ে এত বড় প্রকল্পে যে কর্মযজ্ঞ থাকা দরকার তার কিছুই নেই স্টেডিয়ামজুড়ে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারছে না। এ কারণে কাজের যে গতি থাকার কথা সেটি নেই। অর্থ বরাদ্দ না হলে কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, গত অর্থবছরে ‘আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নতিকরণ এবং জেলা সুইমিংপুলের উন্নয়ন প্রকল্প’
শীর্ষক ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। বরিশালের কহিনুর কনস্ট্রাকশন ও ঢাকার আরো দুটিসহ মোট তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এর কাজ পায়। ২০২৩ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হতে বিলম্ব হচ্ছে।
প্রকল্পের মধ্যে প্রথম পাঁচটি ধাপের কাজ শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এই পাঁচটি ধাপ হলো ক্রিকেট মাঠ, ছাউনিসহ গ্যালারি, ব্যায়ামাগার, প্যাভিলিয়ন ভবন, ড্রেসিংরুমের উন্নয়ন। প্রকল্প অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৩ সালের মধ্যে। কিন্তু করোনার কারণে প্রকল্পের প্রথম ধাক্কা লাগে। আর এখন চলছে অর্থ সংকট।
প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক সরদার মো. শাহ আলম বলেন, গত মাসে আমি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে এসেছি। তাই বর্তমান পরিস্থিতি বলতে পারব না।
তিনি থাকাকালীন অর্থ সংকট ছিল কিনা বা মোট কত টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, সেই বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান পরিচালকের কাছে যোগাযোগের অনুরোধ করেন। বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বলেন, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও প্রায় ৪ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা তিন মাস অতিক্রম করেনি। এরই মধ্যে অর্থ সংকট হওয়ার কথা নয়। তার পরও বিষয়টি নিয়ে সচিবের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে, তিনি বিবেচনা করবেন। এখনো আশা করছি যথা সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। ডিসেম্বর নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করি।
বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন খান আলো বলেন, চলমান কাজটি আমাদের বরিশালবাসীর মনে আশার সঞ্চার করেছে। কিন্তু কাজটি যদি থেমে থাকে বা বিলম্বে শেষ হয় তাহলে আমরা আশাহত হব। আমরা চাই সঠিক সময়ে কাজটি শেষ হোক। তবে যতটুকু জানি বর্তমানে প্রকল্পে অর্থ সংকট চলছে। বরাদ্দ শ্লথ হওয়ার কারণে কাজে বেশ ধীরগতি আছে।
জানা গিয়েছে, ১৯৬৬ সালে বরিশাল নগরীর বান্দ রোড লাগোয়া কীর্তনখোলা নদীর তীরে ২৯ একর ১৫ শতক জমির ওপর স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়ামটি আধুনিকায়ন করে নামকরণ হয় শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল স্টেডিয়াম। তবে এখন পর্যন্ত এ স্টেডিয়ামে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১৯ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক খেলা হিসেবে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের চারদিনের ম্যাচ আয়োজনের কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা পরিত্যক্ত হয়। এরপর দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘ দাবির মুখে স্টেডিয়ামের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।









