স্পেনের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। ইউরোপের দুই সাম্প্রতিক আসরে ফ্রান্সকে বিদায় করার স্মৃতি এখনো তরতাজা। সেই ইতিহাসকে সামনে রেখেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে প্রতিপক্ষকে কড়া বার্তা দিলেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তার দাবি, ফ্রান্সকে যদি কাউকে ভয় পেতেই হয়, তবে সেটি স্পেনকে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ম্যাচে ফ্রান্সকে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শুক্রবার বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে স্পেন। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর জয়সূচক গোলে নিশ্চিত হয় সেমিফাইনাল। এর একদিন আগে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে ফ্রান্স। ফলে মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে ইয়ামাল বলেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায়, তাহলে সেটা আমারাই। আমরা আগেও তাদের বিদায় করেছি। টানা দুইবার তাদের হারিয়েছি। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় এই বিশ্বকাপের সেরা দুই দলই স্পেন ও ফ্রান্স। কী হবে সেটা মাঠেই দেখা যাবে, তবে আমরা কাউকেই ভয় পাই না।

গত তিন বছরে এটি হবে স্পেন ও ফ্রান্সের তৃতীয় বড় লড়াই। ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগ—দুইবারই জয়ী হয়েছিল স্পেন। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে নামছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

স্পেনের জন্য এটি হবে ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। সর্বশেষ ২০১০ সালে শেষ চারে উঠে শিরোপাও জিতেছিল লা রোজা। অন্যদিকে ফ্রান্স টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে রানার্সআপ হয়েছিল তারা।

স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সম্মান করলেও তার দলের আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি বলেন, পরের ম্যাচ নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও জানি, ফ্রান্সকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে। আমাদের সেই মান আছে। এটি আবারও একটি সেমিফাইনাল, যেখানে তাদের বিপক্ষে আগেও সফল হয়েছি। ম্যাচটি খুবই কঠিন হবে। আমাদের নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে।

উত্তর আমেরিকায় শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপের আগে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল স্পেন ও ফ্রান্স—দুই দলই। তবে স্পেন এখনো নিজেদের সেরা ছন্দ পুরোপুরি দেখাতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল তারা। এরপর সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউটে ওঠে। শেষ ষোলোতে অস্ট্রিয়াকে সহজেই হারালেও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে পর্তুগাল ও বেলজিয়াম—দুই ম্যাচেই শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোলের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। দুটি ম্যাচেই নায়ক ছিলেন মিকেল মেরিনো।

তবে ইয়ামালের মতে, স্পেনের খেলাকে যতটা নিস্প্রভ মনে হচ্ছে, বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক কৌশলই তাদের আক্রমণভাগকে পুরোপুরি মেলে ধরতে দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, অনেকের কাছে মনে হতে পারে আমরা খুব ভালো খেলছি না। কিন্তু আমরা যাদের বিপক্ষে খেলছি, সবাই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলছে। কেউ আমাদের সঙ্গে সমানে সমান লড়াইয়ে নামছে না। তারপরও আমরা জিতছি, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেমিফাইনালে উঠতে পেরে আমরা খুব খুশি। আমরা অনেক দূর এসেছি। এখন লক্ষ্য একটাই—ফাইনালে ওঠা।

বার্সেলোনার এই উইঙ্গার সোমবার ১৯ বছরে পা দেবেন। চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে আসা ইয়ামাল এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে একটি গোল করেছেন। তবে গোলসংখ্যা কম হলেও তার গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা স্পেনের আক্রমণের অন্যতম বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই প্রতিভা স্পেনকে ২০১০ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট এনে দিতে পারে কি না।