নেইমার দা সিলভা সান্তোস জুনিয়র—ফুটবল বিশ্বে যিনি ‘নেইমার জুনিয়র’ নামেই বেশি পরিচিত। ড্রিবলিং, গতি, সৃজনশীলতা ও অবিশ্বাস্য দক্ষতায় একসময় তিনি ছিলেন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড সম্প্রতি বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেন। তবে ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের এই তারকা বলেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। এখানে আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’

সেটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির স্টেডিয়াম, যেখানে ২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা তখন স্পষ্ট করে অবসরের ঘোষণা না দেওয়ায় সমর্থকদের মনে হয়তো ক্ষীণ একটুখানি আশা ছিল—হয়তো আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে দেখা যাবে তাকে।

কিন্তু সেই আশায় নিজেই জল ঢেলে দিয়েছেন নেইমার।

আজ কোপা সুদামেরিকানার নকআউট প্লে-অফে ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪–২ গোলের জয়ের পর জাতীয় দল নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। এর পেছনেও অবশ্য একটি প্রেক্ষাপট আছে।

সম্প্রতি সাও পাওলোর ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার লুকাস মউরা সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্তে রেকর্ড’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশা প্রকাশ করেছিলেন, ২০৩০ বিশ্বকাপেও হয়তো খেলবেন নেইমার। সান্তোসের ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বলেন, ‘মউরাকে ধন্যবাদ। কিন্তু এটা ঘটবে না। জাতীয় দলে আমার সময় শেষ হয়েছে। ইতিহাস গড়েছি, সুখী ছিলাম। নিজের জীবন, রক্ত—সবই দিয়েছি। হলুদ জার্সিতে সব সময় লড়াই করেছি। কিন্তু এখন আর এসব চাই না।’

ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে, ৪৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, মাঠে নেমে তিনি দারুণ ছন্দেই খেলেছেন।

ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা নেইমারের হলুদ জার্সিতে শেষ গোলটিও এসেছে বিশ্বকাপে। নরওয়ের বিপক্ষে ২–১ গোলের হারের ম্যাচে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে সেটিই ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ গোল।