বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১৬ দিনব্যাপী এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। ঠাসা সূচির কারণে বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে গত ১০ সেপ্টেম্বর। এমনকি পুরুষ বাস্কেটবলের সেমিফাইনাল ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার, যা ছিল অফিশিয়াল উদ্বোধনের আগের দিন। ফুটবলও প্রায় একই সময় ধরে চলছে। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠল ২০তম এশিয়াডের।

এবারের এশিয়ান গেমসে অন্তত ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন। ২০২৪ সালের প্যারিস গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ হাজার ৭০০। ২০২৩ সালে চীনের হাংঝুতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এশিয়ান গেমসে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ হাজার। এবার ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের ৪৩টি ক্রীড়ার এশিয়ান গেমসে ক্রীড়াবিদদের অফিশিয়াল সংখ্যা জাপানি আয়োজকরা প্রকাশ করেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সংখ্যাটি তিন বছর আগে চীনের আসরের সমান হবে, এমনকি নতুন কিছু খেলা যুক্ত হওয়ায় তা ছাড়িয়েও যেতে পারে।

এ গেমসে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড, সাঁতার ও ফুটবলের মতো প্রথাগত অলিম্পিক ডিসিপ্লিনগুলো তো রয়েছেই, পাশাপাশি কিছু এশীয় ঐতিহ্যবাহী খেলাও রয়েছে; যার মধ্যে কুরাশ, কাবাডি ও সেপাকতাকরো উল্লেখযোগ্য। কুরাশ হলো উজবেকিস্তানে জন্ম একটি প্রাচীন কুস্তি। আয়োজকরা এবার তালিকায় মিক্সড মার্শাল আর্টস, প্যাডেল ও টেকবল যুক্ত করেছেন। সূচিতে রয়েছে ই-স্পোর্টসও। ফলে সূচিতে জট লেগে যাওয়ার অবস্থা তৈরি হয়েছে।

স্বাগতিক জাপানের রয়েছে সবচেয়ে বড় দল, যেখানে ৯৩৩ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন এবং চীন এসেছে ৮০০ জনের কিছু বেশি ক্রীড়াবিদ নিয়ে। গত আসরে চীন ২০১টি স্বর্ণপদক জিতেছিল, যার পরের অবস্থানে ছিল জাপান (৫২) ও দক্ষিণ কোরিয়া (৪২)। এবারো সেই একই ধারার পুনরাবৃত্তি আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকো আলো কাড়েন। সম্রাট আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) প্রেসিডেন্ট কার্স্টি কভেন্ট্রি ও অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) প্রেসিডেন্ট শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল থিম ছিল ‘হারমোনিক হার্ট বিট’ (ছন্দময় হৃৎস্পন্দন)। নাগোয়া সিটি স্টেডিয়ামের ইনফিল্ডের মঞ্চটি তৈরি করা হয়েছিল একটি বিশাল হৃদয়ের (হার্ট) আকারে। ক্রীড়াবিদদের ঐতিহ্যবাহী মার্চপাস্টে সবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় আফগানিস্তান, আর স্বাগতিক হিসেবে সবার শেষে মাঠে প্রবেশ করে জাপান।

এবার ব্যতিক্রমী পথে হেঁটেছে স্বাগতিক জাপান। অ্যাথলেটদের জন্য কোনো ভিলেজ তৈরি করা হয়নি। এর পরিবর্তে আনুমানিক ১৭ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের একটি বিশাল ক্রুজ শিপ (বিলাসবহুল জাহাজ), হোটেল ও থাকার জায়গায় রূপান্তরিত কাঠের কনটেইনারে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা মহামারীর কারণে পিছিয়ে যাওয়া টোকিও অলিম্পিকে জাপান অফিশিয়ালি ১৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল, যদিও একটি সরকারি অডিটে দেখা গেছে, সেই অঙ্কটি আসলে এর দ্বিগুণ ছিল। তাই এবার বিপুল অর্থ ব্যয়ের সুযোগ ছিল না। ক্রীড়াবিদরা অভিযোগ করেছেন যে বিছানা এবং কক্ষগুলো অত্যন্ত ছোট। কেউ কেউ জানিয়েছেন কাঠের কুটিরগুলো থেকে পানি চুইয়ে পড়ছে এবং ভেন্যুগুলো নাগোয়াজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় যাতায়াত ব্যবস্থাও একটি বড় সমস্যা হতে পারে।