সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলতি ১৭তম এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনাল আজ। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও পাকিস্তান। ভারত নবম ও পাকিস্তান তৃতীয় শিরোপার খোঁজে নামছে। এশিয়া কাপের ১৭ আসরের ইতিহাসে এই প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান! ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এশিয়া কাপে মোট ২০ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। এর মধ্যে ভারত ১২টিতে ও পাকিস্তান ছয়টিতে জিতেছে, দুটি ম্যাচ ছিল ফলহীন। ওয়ানডে ফরম্যাটে ১৫ বারের লড়াইয়ে ভারত ৮টি ও পাকিস্তান ৫টি জয় পেয়েছে, দুটি ছিল ফলহীন। এশিয়া কাপে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ৫ বারের মোকাবেলায় ভারত ৪টি ও পাকিস্তান ১টি জয় তুলে নিয়েছে।
এছাড়া দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ মোট ১৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ভারত ১১টিতে জিতেছে, পাকিস্তান জিতেছে তিনটি, বাকি ম্যাচটি টাই হয়।
রাজনৈতিকভাবে বৈরী সম্পর্কের কারণে বড় আসর ছাড়া মুখোমুখি হয় না ভারত ও পাকিস্তান। এশিয়া কাপের আগে গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বশেষ মুখোমুখি হয় তারা। নিউইয়র্কে লো-স্কোরিং ম্যাচে ভারত জয়লাভ করে। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ ওভারে মাত্র ১১৯ রান তুলতে সমর্থ হয় ভারত। জবাব দিতে নেমে পাকিস্তান ৭ উইকেটে মাত্র ১১৩ রান তুলতে সমর্থ হয়। মাঠের বাইরে উন্মাদনা, কথার যুদ্ধ চললেও প্রতিবেশী দেশের কাছে হারের বৃত্তেই রয়েছে পাকিস্তান। এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বে ৭ উইকেটে ও সুপার ফোর পর্বে ৬ উইকেটে হারের স্বাদ পেয়েছে সালমান আগার দল।
এশিয়া কাপে শিরোপা জয়ে কিংবা টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে—সবকিছুতে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে ভারত। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ১৬ বারের এশিয়া কাপ আসরে সর্বোচ্চ আটবার শিরোপা জিতেছে ভারত। পাকিস্তান শিরোপার স্বাদ পেয়েছে মাত্র দুবার। ছয়বার শিরোপা জিতে দুইয়ে শ্রীলংকা।
দুই দলের টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি ১১ ম্যাচে ৭০.২৮ গড়ে করেছেন ৪৯২ রান। পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান (২২৮) দুইয়ে থাকলেও কোহলির চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। শীর্ষ দশের সাতজনই এখন অবসরে। বর্তমানে যারা খেলছেন তাদের মধ্যে শীর্ষ দশে আছেন সূর্যকুমার যাদব, অভিষেক শর্মা ও বাবর আজম। শেষেরজন এ আসরে নেই। সূর্যকুমার ৭ ম্যাচে করেছেন ১১১ রান। আর অভিষেক শর্মা চলতি আসরে দুই ম্যাচেই করেছেন ১০৫ রান। তার রান তোলার গড় ৫২.৫০।
মেলবোর্নে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ৫৩ বলে ৮২ রানের ক্ল্যাসিক ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে হারিয়েছিলেন কোহলি। ২০১২ সালের বিশ্বকাপে কলম্বোয় ৬১ বলে ৭৮ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে হারাতে রেখেছিলেন বড় ভূমিকা। কোহলি অবসর নেয়ায় পাকিস্তান হয়তো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। যদিও তার জায়গাও দ্রুত পূরণ করেছেন অভিষেক শর্মা কিংবা শুবমন গিল।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ১৫ উইকেট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। তিনি ৯ ম্যাচে ১৫ উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার ৭ ম্যাচে ১১ উইকেট, পাকিস্তানের উমর গুল ৬ ম্যাচে ১১ উইকেট, হারিস রউফ ৬ ম্যাচে ৯ উইকেট ও ভারতের জশপ্রীত বুমরাহ ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট শিকার করেছেন। পাকিস্তানের বর্তমান দলটির মূল স্ট্রাইক বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি ৫ ম্যাচ খেলে নিতে পেরেছেন মাত্র ৪ উইকেট, তিনি আছেন ১৯ নম্বরে।
এশিয়া কাপ মানেই ভারতের আধিপত্য। আগের ১৬ আসরে সর্বোচ্চ আটবার শিরোপা জিতেছে তারা। ২০১৬ সাল থেকে ওয়ানডের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এশিয়া কাপ। ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে হলে ওয়ানডে ফরম্যাট, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে থাকলে সে বছর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হয় এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের এ আসর। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে এ বছর আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ হচ্ছে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে। ২০২২ সালে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপ জিতেছিল শ্রীলংকা। ২০২৩ সালের ওয়ানডে ফরম্যাটের আসরে শ্রীলংকাকে গুঁড়িয়ে শিরোপা জিতে নেয় ভারত।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটা তৃতীয় এশিয়া কাপ আসর। ২০১৬ সালে ভারত ও ২০২২ সালে শ্রীলংকা শিরোপা জিতে নেয়। তৃতীয় আসরে শিরোপার ফেভারিট ভারত, যারা বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও।
দুই ফরম্যাট মিলিয়ে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা এবার ফাইনালে উঠতে পারেনি। আজ শিরোপা জিততে পারলে শ্রীলংকাকে আরেকটু পেছনে ফেলতে সমর্থ হবে ভারত। তৃতীয় সর্বোচ্চ দুবার শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। তাদের সামনে এবার তৃতীয় শিরোপার হাতছানি। যদিও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুই দলের ইতিহাস, বর্তমান ফর্ম—সবকিছু ভারতের পক্ষেই কথা বলছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ নিয়ে পঞ্চমবার এশিয়া কাপের আসর বসেছে। ১৯৮৪ সালে প্রথম আসর বসেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে। বাংলাদেশেও সমান পাঁচবার হয়েছে এশিয়া কাপ আসর। এর মধ্যে ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে টানা তিনবার বাংলাদেশ স্বাগতিক ছিল। তার আগে ২০০০ ও ১৯৮৮ সালে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে। পাঁচবার এশিয়া কাপ আয়োজন করেছে শ্রীলংকা, যার মধ্যে একবার পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ আয়োজক ছিল তারা। পাকিস্তান দুবার (একবার শ্রীলংকার সঙ্গে যৌথ আয়োজক) ও ভারত একবার এশিয়া কাপ আয়োজন করে।
এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক বিরাট কোহলি, যিনি টি-টোয়েন্ট ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন। ৪২৯ রান করেছেন তিনি। সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৩২৭ রান নিয়ে দুইয়ে ছিলেন শ্রীলংকার পাথুম নিশাঙ্কা। গতকাল কোহলির সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগ ছিল তার। এশিয়া কাপের ওয়ানডে ফরম্যাটে শীর্ষ দুই রান সংগ্রাহক শ্রীলংকান। সনাথ জয়সুরিয়া ১২২০ রান নিয়ে শীর্ষে ও কুমার সাঙ্গাকারা ১০৭৫ রান নিয়ে দুইয়ে অবস্থান করছেন।
ওয়ানডে এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ ৩০টি উইকেট নিয়েছেন শ্রীলংকার মুত্তিয়া মুরালিধরন। এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট শিকার করেছেন পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফ। শুক্রবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি শীর্ষে উঠে যান। ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া ১৪ উইকেট নিয়ে চারে অবস্থান করছেন।









