বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়ানোর আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নানাবিধ উন্মাদনা। জয়-পরাজয়ের সমীকরণ বিশ্লেষণ আর ভবিষ্যদ্বাণীর খেলায় মেতে উঠেছে কোটি কোটি ভক্ত। বৈশ্বিক ফুটবলের এ মেগা আসরকে কেন্দ্র করে এবার মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা চিড়িয়াখানায় বসেছে অভিনব ভাগ্যগণনার আসর। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর জয়-পরাজয় নির্ধারণের খেলায় মেতেছে চিড়িয়াখানার হাতি, গরিলা থেকে শুরু করে পুমা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে কৌতূহল মেটাতে চিড়িয়াখানার ভেতরে তৈরি করা হয় একটি কৃত্রিম ফুটবল মাঠ। সেখানে হাজির করা হয় এক জোড়া বিশালাকায় হাতিকে। মাঠের একপাশে রাখা মেক্সিকোর জাতীয় পতাকা সংবলিত সবুজ ঘাস, অন্যপাশে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকা লাগানো অংশ। মুহূর্তের সিদ্ধান্তে হেলেদুলে মেক্সিকোর পতাকার দিকেই এগিয়ে যায় হাতির দল। চিড়িয়াখানার হাতিদের এ রায় নিশ্চিত করছে, ১১ জুনের বহুল প্রতীক্ষিত উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ী হতে যাচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকোই।
প্রাণীদের দিয়ে বিশ্বকাপের ভাগ্যগণনার এ সংস্কৃতি অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জার্মানির ওবারহাউসেন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘পল দ্য অক্টোপাস’র কথা ফুটবলপ্রেমীদের এখনো মনে থাকার কথা। সেবার পলের নিখুঁত সব ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এবার সেই ধারাই যেন ফিরিয়ে আনল মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

হাতিদের পর ভাগ্যগণনার মঞ্চে হাজির করা হয় ‘চেনচি’ ও ‘ফাউস্তিনা’ নামের দুটি গরিলাকে। তাদের সামনে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছিল ফুটবলারদের জার্সির আদলে তৈরি দুটি পিয়াতা (খেলনা ও মিষ্টিভর্তি পাত্র)—যার একটি স্পেনের ও অন্যটি উরুগুয়ের। কিছুক্ষণ দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকার পর একটি গরিলা আচমকা উরুগুয়ের জার্সিটি খপ করে ধরে ফেলে। যার অর্থ, আগামী ২৬ জুনের ম্যাচে উরুগুয়ের জয় দেখছে প্রিম্যাটরা।
ভবিষ্যদ্বাণীর এ তালিকায় পিছিয়ে ছিল না চিড়িয়াখানার অন্য বাসিন্দারাও। ‘মুলুক’ নামের একটি পুমা বাজি ধরেছে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়ের পক্ষে। অন্যদিকে, এক দল জিরাফ কলম্বিয়াকে পেছনে ফেলে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে বেছে নিয়েছে ম্যাচের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে।
তবে কেবল দর্শক বিনোদনই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য নয়। চিড়িয়াখানার রক্ষক ইভান রেনোসো জানান, এ ধরনের কার্যক্রম প্রাণীদের মনস্তাত্ত্বিক উদ্দীপনা জোগাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, "বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল উৎসবের আগে এই আয়োজন যেমন দর্শকদের রোমাঞ্চিত করছে, ঠিক তেমনি এটি প্রাণীদের অনেক ইন্দ্রিয়কে উদ্দীপিত করে।
মাঠের আসল ফুটবলে এ বন্য জ্যোতিষীদের হিসাব কতটা মিলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে খেলা শুরুর আগেই মেক্সিকোর এ চিড়িয়াখানা যে ফুটবল বাণিজ্যের বিনোদন বাজারে বড়সড় এক ঢেউ তুলেছে, তা বলাই বাহুল্য।














