সেই বাংলাদেশ দল এবার ঘুরে দাঁড়াল অসামান্য দৃঢ়তা নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিন কর্তৃত্ব করল টাইগাররা। স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে অলআউট করে দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পেসার হাসান মাহমুদ ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে (৬/৫৫) রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। জবাবে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে প্রথম দিন মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম দিনটা মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ দল। পেসস্বর্গে পেসেই বাজিমাত টাইগারদের। হাসানকে দারুণ সঙ্গ দেন অন্য দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। উভয়ই নেন দুটি করে উইকেট। সব মিলিয়ে তিন পেসার শিকার করেন অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেট। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ইনিংসে ১০ উইকেট নিলেন পেস বোলাররা। এছাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে এই প্রথম ২০০ রানের নিচে অলআউট হলো অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে ২১৭ রানে অলআউট হয়েছিল অজিরা, যা ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে তাদের সর্বনিম্ন ইনিংস।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়া। এরপর দলীয় ৭৪ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে যথাক্রমে ২২ ও ২৩ রানে ফেরান হাসান মাহমুদ। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে এবাদত হোসেন সাজঘরে ফেরান আর ক্যামেরন গ্রিনকে ১৩ রানে আউট করেন তাসকিন আহমেদ।
পঞ্চম উইকেটে স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি ৮৫ বলে ৫৫ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে শতরান পার করান। ১৯ রানে ক্যারিকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন এবাদত। বিউ ওয়েবস্টারকে ১২ রানে আউট করেন তাসকিন, অজিরা ১৫২ রানে হারায় ষষ্ঠ উইকেট। শেষ দিকে আবার হাসানের সংহাত মূর্তি। তার তোপের মুখে ৪৬ রানের মধ্যে শেষ চার উইকেট হারায় অজিরা। স্টিভেন স্মিথকে ৭১ রানে, অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে ৯, মিচেল স্টার্ককে ১ ও নাথান লায়নকে ৭ রানে ফেরান তিনি।
১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং করেন হাসান, যিনি এ বছর সাকিব আল হাসানের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে কাউন্টিতে খেলার কৃতিত্ব দেখান। ১৫ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেলেন তিনি। নিখুঁত লাইন-লেংথের সঙ্গে সুইং ও মুভমেন্টও পেয়েছেন হাসান। তিন সংস্করণ মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ উইকেট নেয়া প্রথম বাংলাদেশী বোলার তিনি। ২৬ বছর বয়সী এ ডানহাতি পেসার টেস্টে তৃতীয়বার পেলেন ইনিংসে পাঁচ উইকেট।
বোলারদের কৃতিত্বের পর চমক দেখান বাংলাদেশের ব্যাটাররা। অস্ট্রেলিয়ার পেস তারকাদের দারুণ জবাব দিয়ে ২৪ ওভার ব্যাটিং করে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলেছে টাইগাররা। সাজঘরে ফিরেছেন শুধু সাদমান ইসলাম। গতিদানব মিচেল স্টার্কের বলে নাথান লায়নকে ক্যাচ দেন তিনি। নবম ওভারে সাদমানের বিদায়ের পর প্রায় ১৬ ওভার ব্যাট করে দলকে স্বস্তিদায়ক জায়গায় নিয়ে যান তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক সৌরভ। তানজিদ ৬৭ বলে ৩২ ও মুমিনুল ৪৯ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। ৯৬ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের স্বপ্নই দেখালেন দুজন।
সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল ৬ বাউন্ডারিতে ৩৫ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন। এ পথে এখন তিনি তামিম ইকবালকে (৫,১৩৪) ছাড়িয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সফলতম টেস্ট ব্যাটসম্যান (৫,১৬৬) হয়েছেন। ৬ হাজার ৮০৬ রান নিয়ে দেশের শীর্ষ রান সংগ্রাহক মুশফিকুর রহিম। তিনি এ টেস্টে রান সংখ্যা আরেকটু বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ পাবেন।
এদিন এক উইকেট নিয়ে রেকর্ড ছুঁয়েছেন মিচেল স্টার্ক। বামহাতি বোলারদের মধ্যে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটের চূড়ায় উঠেছেন তিনি। গতকাল তিনি টপকে যান রঙ্গনা হেরাথকে (৪৩৩), আর ছুঁয়েছেন ভারতের কপিল দেবকে (৪৩৪)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১, ওয়েদারাল্ড ২৩, হেড ২২; হাসান ৬/৫৫, এবাদত ২/৩৯, তাসকিন ২/৫৫)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৯৬/১ (মুমিনুল ৩৫*, তানজিদ ৩২*, সাদমান ২০; স্টার্ক ১/২৮)।—প্রথম দিন শেষে।









