টি-টোয়েন্টিতে ২০০৭ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৫২টি সিরিজ খেলে বাংলাদেশ জিতেছে ১৭টি সিরিজ। সর্বশেষ সদ্যই ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে ২-১-এ সিরিজে হারিয়েছে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ টানা জয়ের পর তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পাত্তা পায়নি স্বাগতিকরা। এর পরও সিরিজ জয়ের উৎসব ঠিকই হয়েছে। এ সাফল্যে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আগে টি-টোয়েন্টিতে উজ্জীবিত বাংলাদেশ।
এ নিয়ে টানা দুটি বড় দলের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। সদ্যই শ্রীলংকার মাঠে ২-১-এ সিরিজ জিতে দেশে ফিরেছে টাইগাররা। ফেরার পর পরই সামনে পড়ে পাকিস্তান। শ্রীলংকার ফর্মটা দেশে টেনে আনতে সমর্থ হন লিটন, ইমন, তাসকিনরা। ফলে প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পায় স্বাগতিকরা। তৃতীয় ম্যাচে পাঁচ পাঁচটি পরিবর্তনের খেসারত দিতে হয় লিটনদের। তারা ৭৪ রানে হেরে যান ম্যাচটি।
গত বছর নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাঠে ৩-০তে সিরিজে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর ছন্দপতন। গত মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান সফরে টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর শ্রীলংকা সফরেও সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে বসে লিটন দাসের দল। টানা ছয় হারে কোণঠাসা হয়ে পড়া দলটি অবশেষে ঘুরে দাঁড়ায়। শ্রীলংকায় সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ জিতে নেয় তারা। এর মধ্য দিয়ে শ্রীলংকায় যেকোনো ফরম্যাটে প্রথম সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ে টাইগাররা। সেই স্মৃতি টাটকা থাকতেই তারা ঘরের মাঠে হারিয়ে দেয় ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি পাকিস্তানকে।
২০১৫ সালে ঢাকায় এক ম্যাচের সিরিজ জিতে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তারপর এবারই প্রথম পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখায় টাইগাররা। এমনকি এই প্রথম পাকিস্তানকে তিন ম্যাচের সিরিজে হারায় তারা।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক পেস বোলার হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেছেন, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের সঙ্গে দুটি সিরিজ জয় সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপ ও আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে উজ্জীবিত করবে। কারণ প্রতিপক্ষ দুটি দলই শক্তিশালী। এর মধ্যে শ্রীলংকায় সিরিজ জয়কে তিনি এগিয়ে রাখতে চান। বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের এ নির্বাচক পাশাপাশি এটাও বলেছেন, বর্তমান দলের ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকতা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তার কথায়, ‘সমস্যা হলো তারা তো এক ম্যাচে ভালো খেলে তো পরের ম্যাচেই খারাপ করে। খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক হতে হবে।’
এছাড়া সিনিয়র খেলোয়াড়দের ফিটনেসের ওপর জোর দিলেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘আমি মনে করি, সিনিয়র খেলোয়াড়রা যদি সবাই ফিট থাকে তাহলে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে।’
অধিনায়ক লিটনের কথাও জানা গেল, সিনিয়র খেলোয়াড়দের সবাইকে পেয়েই তারা টানা দুটি সিরিজ জিতলেন। পাকিস্তানকে হারানোর পর লিটন বলেছেন, ‘আরব আমিরাত ও পাকিস্তানে আমরা সংকটে ছিলাম। ওই দুটি সিরিজে আমি আমার সেরা খেলোয়াড়দের পাইনি। তাসকিন আহমেদ ছিলেন না, মুস্তাফিজ আইপিএল খেলতে যান। মুস্তাফিজের সামর্থ্য ও প্রতিপক্ষের জন্য কতটা বিপজ্জনক, সেটা আমরা জানি। পাকিস্তান সফরে আমরা আরো কিছু খেলোয়াড়কে পাইনি। আবার যারা ছিলেন তারাও সেরাটা দিতে পারেননি। আমি মনে করি, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের সঙ্গে এবারের দুটি সিরিজে আমরা পূর্ণ সেটআপ পেয়েছি। সবাই ফিট থাকলে এভাবেই আমাদের খেলে যেতে হবে।’
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ ও সিরিজ জয় করে ২০০৬ সালে। সেবার খুলনায় একমাত্র ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৪৩ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের কাছে টানা চারটি সিরিজে হারের পর ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এক ম্যাচের সিরিজে হারায় তারা।
২০১২ সালে স্কটল্যান্ডকে হারানোর পরের আটটি সিরিজে হেরেছে কিংবা ড্র করেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে মিরপুরে পাকিস্তানকে একমাত্র ম্যাচে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর আবার আট সিরিজের দীর্ঘ বিরতি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের কাছে ৩-০তে সিরিজ হারের লজ্জাও আছে। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সিরিজে ক্যারিবীয়দের হারায় বাংলাদেশ। একই বছর ফিরতি হোম সিরিজে অবশ্য হেরে যায় টাইগাররা। এরপর ২০২০ ও ২০২১ সালে জিম্বাবুয়েকে এবং ২০২১ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে সিরিজে হারিয়ে দেয় টাইগাররা। ২০২২ সালে আরব আমিরাতের মাঠে ২-০তে জয় পায় বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে ২০২৩ সালটি অবিস্মরণীয় কেটেছে টাইগারদের। এ বছর তারা হোম সিরিজে ইংল্যান্ডকে ৩-০তে, আয়ারল্যান্ডকে ২-১-এ ও আফগানিস্তানকে ২-০তে হারায়। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়েকে হোম সিরিজে ৪-১-এ হারালেও তার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ১-২ ব্যবধানে সিরিজ হারের লজ্জা পায় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পরপর ভারত সফরে গিয়ে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ হয়ে আসে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এরপর পাঁচটি সিরিজ খেলে তিনটিতেই জিতল টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৯৪ ম্যাচ খেলে ৭৬টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
এবার দেখে নেয়া যাক, টি-টোয়েন্টিতে কার সঙ্গে কতটি জয় এসেছে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ২৫ ম্যাচে ১৭টি, শ্রীলংকার সঙ্গে ২০ ম্যাচে ৮টি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ১৯ ম্যাচে ৮টি, আফগানিস্তানের সঙ্গে ১২ ম্যাচে ৫টি, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ৮ ম্যাচে ৫টি, পাকিস্তানের সঙ্গে ২৫ ম্যাচে ৫টি, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১১ ম্যাচে ৪টি, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ৫ ম্যাচে ৪টি, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২০ ম্যাচে ৪টি, আরব আমিরাতের সঙ্গে ৬ ম্যাচে ৪টি, ইংল্যান্ডের সঙ্গে ৪ ম্যাচে ৩টি, নেপালের সঙ্গে ২ ম্যাচে ২টি, ওমানের সঙ্গে ২ ম্যাচে ২টি, ভারতের সঙ্গে ১৭ ম্যাচে ১টি, কেনিয়ার সঙ্গে ১ ম্যাচে ১টি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৩ ম্যাচে ১টি জয় পাওয়া বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ৯ ম্যাচে জয়হীন।









