বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ ‘সি’-এর প্রথম বড় লড়াইয়ে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করেছে। আজ ভোরে কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মরক্কো নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্রাজিলের পরিচিত দুর্বলতাগুলোকেও সামনে এনে দিয়েছে।
২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও সুসংগঠিত ফুটবল খেলেছে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে মাঝমাঠে লুকাস পাকেতার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণ সাজান ব্রাহিম দিয়াজ। তার পাসে ইসমাইল সাইবারি একক প্রচেষ্টায় গোলরক্ষক অ্যালিসনকে পরাস্ত করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পরও ব্রাজিল ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না। মরক্কোর গতি ও মুভমেন্টে বারবার বিপাকে পড়ছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে ৩২তম মিনিটে এক ঝলক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বক্সের বাঁ প্রান্তে ব্রুনো গিমারাইসের পাস পেয়ে ডান পায়ে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান তিনি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিল এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও পেয়েছিল। কিন্তু পাকেতার আকর্ষণীয় সিজর কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
বিরতির পর আনচেলত্তি কৌশলগত পরিবর্তন আনেন। ফাবিনিও ও দানিলোকে নামিয়ে মাঝমাঠ ও রক্ষণে স্থিতি ফেরানোর চেষ্টা করেন। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল ও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ব্রাজিলের হাতে চলে আসে।
তবে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খেতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ৭৮তম মিনিটে রাফিনিয়া একটি ভালো সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় মাতেউস কুনিয়া গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও জয়সূচক গোল আর আসেনি।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি স্বীকার করেন, প্রথমার্ধে তার দল নার্ভাস ছিল এবং খুব বেশি বল হারিয়েছে। অন্যদিকে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, এক পয়েন্ট ভালো হলেও তাদের লক্ষ্য সেমিফাইনালের চেয়েও এগিয়ে যাওয়া।
ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-র লড়াই জমে উঠেছে। দুই দলই এখন গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট পর্বে তুলনামূলক সহজ পথ পাওয়ার আশা ধরে রেখেছে।














