উইমেনস এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের জন্য ৫৫ জন ফুটবলারকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। আজ খেলোয়াড়দের রিপোর্টিংয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প। কোচ পিটার বাটলারের অধীনে আর খেলবেন না বলে কিছুদিন আগেই বিদ্রোহ করেছিলেন সাফজয়ী দলের ১৮ ফুটবলার। পরে বাফুফের চেষ্টায় মেয়েরা নমনীয় হয়ে বাটলারের অধীনে অনুশীলন করতে রাজি হন। আজ তাদের যোগ দেয়ার কথা। এখন প্রশ্ন হলো, ব্রিটিশ কোচ বাটলার কি তাদের স্বাগত জানাবেন?

গতকাল বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারপারসন মাহফুজা আক্তার কিরণের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল মেয়েরা সবাই ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছেন কিনা? এর জবাবে তিনি বলেছেন, আজ সন্ধ্যায় তিনি এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন।

সাফজয়ী দলের ডিফেন্ডার নিলুফা ইয়াসমিন নিলা ক্যাম্পে যোগ দেয়া নিয়ে কোনো জটিলতা আছে কিনা, তা জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘কোনো জটিলতা নেই। আমরা সবাই আগামীকাল (আজ) ঢাকায় চলে যাব, ক্যাম্পে যোগ দেব।’

অবশ্য আজ সবার যোগ দেয়া হচ্ছে না ভিন্ন একটি কারণে। সাবেক অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভিন, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মাতসুশিমা সুমাইয়া ও রুপনা চাকমা যাচ্ছেন ভুটানের লিগ খেলতে। এজন্য এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ক্যাম্পে তারা যোগ দিতে পারছেন না। তাদের মধ্যে চারজনের আজই ভুটান যাওয়ার কথা, বাকিরা ভিসা পাওয়া সাপেক্ষে শিগগিরই যাবেন।

ভুটানগামী ফুটবলারদের নিয়ে কিরণ বলছিলেন, ‘আমরা তাদের ভুটানের লিগ খেলতে এনওসি দিয়েছি, এরপর যখন জাতীয় দলের প্রয়োজনে তাদের ডাকা হবে তখন তারা চলে আসবে।’

সংকটের সূচনা গত বছর। গত অক্টোবরে কাঠমান্ডুতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলার সময়ই এটি প্রকাশ্যে আসে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে বসিয়ে রেখে জুনিয়রদের মাঠে নামান বাটলার। বাংলাদেশ ম্যাচটি ড্র করে। পরে বাংলাদেশই সাফ শিরোপা জিতে দেশে ফেরে। যদিও কোচ-খেলোয়াড় দ্বন্দ্বটা রয়ে যায়। পরে বাটলারের বিরুদ্ধে মানসিক হয়রানি ও উৎপীড়নসহ আরো অনেক অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করেন বিদ্রোহ করা ফুটবলাররা। সাবিনা-ঋতুপর্ণারা জানান, বাটলারের অধীনে তারা খেলবেন না, কোচকে অপসারণ না করলে গণ অবসরে যাবেন। যদিও পরে এ অবস্থান থেকে সরে আসেন ফুটবলাররা।

বিদ্রোহ থেকে সরে আসার পর বাফুফের ক্যাম্পে থাকা ফুটবলাররা ২৪ ফেব্রুয়ারি ছুটিতে যান। এর পরপরই মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। দুটিতেই ৩-১ গোলে হেরেছে বাটলারের দল। ওই ম্যাচ দুটিতে অধিনায়ক করা হয় আফিদা খন্দকারকে। তাকেই স্থায়ীভাবে দলের নেতৃত্ব দেয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এবার সাফজয়ীদের ফেরার পালা। মেয়েরা ছুটিতে যাওয়ার আগেরদিন সাবিনা-ঋতুপর্ণারা অনুশীলনে ফিরতে ও চুক্তি করতে নিশ্চয়তা দিয়েছেন জানিয়ে কিরণ বলছিলেন, ‘সভাপতি ও আমার পক্ষ থেকে মেয়েদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম। ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করেছি আমরা। আমি যেটা বলতে পারি, মেয়েরা ট্রেনিংয়ে ফিরবে। ওরা যখন অনুশীলন শুরু করবে, তার আগে আমরা যেটা করব, আমরা ও বাফুফের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ, সভাপতি মেয়েদের, কোচ-সবার সঙ্গে বসে তাদের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, সেটা মিটিয়ে দেয়া হবে।’

বিদ্রোহ করা ১৮ ফুটবলারের হুমকির পর নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন বাটলারও। ইংলিশ এ কোচ জানান, নির্দিষ্ট কয়েকজন থাকলে এ দলে আর কোচিং করাবেন না তিনি। তার বক্তব্য ছিল, ‘হয় ওরা, নয় আমি।’ কোচের এমন মন্তব্য নিয়ে কিছু ‍বলেননি কিরণ। তিনি বলেন, ‘আমি কোচের সঙ্গে কোনো কথা বলিনি, এ কারণে এটা নিয়ে বলতে পারব না। ছুটি শেষ করে ওরা যখন ক্যাম্পে ফিরে আসবে, তখন আমরা বসব। দুই পক্ষের সঙ্গে আবার বসব, যার যা ভুল-ভ্রান্তি আছে, কথা বলে মিউচুয়াল করে ওরা চুক্তি করবে, ট্রেনিংয়ে যাবে।’

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এএফসির সদর দপ্তরে বাছাই পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এ ড্রতে বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে মিয়ানমার, বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে মিয়ানমার রয়েছে ৫৫ নম্বরে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনের অবস্থান ৯২তম। বাংলাদেশ রয়েছে ১৩৩ নম্বরে আর তুর্কমেনিস্তান ১৪১।

এশিয়ার ৩৪টি দেশ অংশ নেবে বাছাইপর্বে। আট গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে দেশগুলো। ছয় গ্রুপে আছে ৪টি করে দল। বাকি দুই গ্রুপে আছে ৫টি করে দল। আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা চূড়ান্ত পর্বে যোগ দেবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে। স্বাগতিক হিসেবে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। চূড়ান্ত পর্বে খেলবে মোট ১২টি দেশ।

আগামী ২৩ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব হবে মিয়ানমারে। এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব আগামী বছর ১-২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায়। ২৯ জুন ইয়াঙ্গুনে বাহরাইনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ২ জুলাই মিয়ানমার ও ৫ জুলাই তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে খেলবে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা।

আর্থিক কারণ দেখিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলকে ২০২৩ সালে অলিম্পিক বাছাই খেলতে মিয়ানমারে না পাঠানোয় তীব্র সমালোচনার মধ্যে পড়ে বাফুফে। এবার এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের খেলা সেই মিয়ানমারেই পড়েছে।