প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের লিড নেয়া ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অল আউট হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এর মধ্য দিয়ে তারা ম্যাচটিতে হেরে যায় ইনিংস ও ৩৮ রানের বড় ব্যবধানে। বাংলাদেশের ব্যাটিংধসের মূল কারিগর বামহাতি পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন। মাত্র ২৫ রান খরচ করে ৮ উইকেট নিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এ বোলার। অথচ এটা কিনা তার মাত্র দ্বিতীয় ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ! প্রস্তুতি ম্যাচে এই অচেনা থম্পসনে কাঁপল টাইগাররা। মূল লড়াইয়ে মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজেলউডদের সামনে কী করবেন শান্ত, মুশফিকরা?
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের প্রায় সবাই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় কিংবা সমর্থকদের কাছে অচেনা। এ দলই কিনা রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল নাজমুল হোসেনদের। মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দল লজ্জা এড়িয়ে ২৬৩ রান তুলতে পারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ধরাশায়ী। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ৩৫৫ রান। একাই ১৩০ রান করেছিলেন টিগ উইলি। তাতে প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে প্রায় একশ রানে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে। সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক সৌরভকে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন তরুণ পেসার থম্পসন। তানজিদ হাসান ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। গতকাল তৃতীয় ও শেষ দিন সকালে মাঠে নেমে আবারো সেই থম্পসনের ভয়ংকর গতিঝড়ের মুখে বাংলাদেশ। সকালে ১৭ ওভারের মধ্যে বাকি ৮ উইকেট হারিয়ে ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় অতিথি দলটি। সকালে পতন হওয়া ৮ উইকেটের ৬টিই নেন থম্পসন, বাকি ২টি শিকার করেন কোরি রকিচায়োলি।
বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে তানজিদ হাসান তামিম সর্বোচ্চ ২২ রান করেন। এছাড়া আর কেউই ছুঁতে পারেননি দুই অংক। শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনজন।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরুটা হয় আগের দিনই। সাদমান ইসলাম ৬ রান করে থম্পসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর মুমিনুল হকও ৬ রান করে বোল্ড হন। তৃতীয় দিন সকালে মাত্র ৩৬ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ (২২) কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। শেষ দিকে বাংলাদেশের আর কেউই ব্যাট হাতে লড়তে পারেননি। পরপর দুই বলে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন থম্পসন।
থম্পসন ১১ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট নেন। তার সঙ্গে রকিচায়োলি পান ২ উইকেট।
প্রস্তুতি ম্যাচে চরম লজ্জার মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশ দলকে এবার প্রস্তুতি নিতে হবে মূল লড়াইয়ের জন্য। সামনে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়া। ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। ২৩ আগস্ট ম্যাকাইতে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের এমন ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটল। সংগত কারণেই দলের মধ্যে হতাশা এখন চরমে। ব্যতিক্রম নন কোচ ফিল সিমন্সও। শান্ত, সৌম্যদের আউট হওয়ার ধরন নিয়ে তিনি ভীষণ বিরক্ত আর অসন্তুষ্ট। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদীও। তার শিষ্যরা টেস্ট সিরিজের আগে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে তৈরি হয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন সিমন্স।
অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দলের অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচের তিনটি দিনে ছেলেদের সামগ্রিক কাজে কোচ খুশিই ছিলেন। অস্বস্তি বয়ে আনল কেবল তৃতীয় দিনের সকালটি। গতকাল ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাঠানো ভিডিও বার্তায় সিমন্স বলেছেন, ‘যে তিনটি দিন আমরা পেয়েছিলাম, বেশকিছু ভালো কাজ হয়েছে। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে আমরা নিজেদের হতাশ করেছি। আপনি যদি আমাদের আউট হওয়ার ধরন খেয়াল করেন, তা মোটেও ভালো কিছু ছিল না।’
তবে হাল ছাড়ছেন না সিমন্স। তার বিশ্বাস, শান্তরা দ্রুতই ভুল শুধরে নেবেন। ক্যারিবীয় কোচ বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচে ঠিক যা করা প্রয়োজন, তা নিয়ে কাজ করার জন্য আমাদের হাতে আরো তিনদিন সময় আছে। ছেলেদের ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। আগামী তিনদিনে তারা দরকারি কাজগুলো সেরে নেবে, যাতে টেস্টের জন্য নিজেদের কাঙ্ক্ষিত জায়গায় দেখতে পাই। এটি একটি হতাশাজনক ম্যাচ ছিল, তবে আমরা অতীত ভুলে সামনে তাকাচ্ছি এবং টেস্টের অপেক্ষায় আছি।’









