বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আলোচিত নির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর। এরই মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। এবার নির্বাচনের ক্ষণগণনা।
বিসিবি নির্বাচনে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার ৭১ জন; প্রিমিয়ার ডিভিশন, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ লিগের প্রতিনিধি হিসেবে ৭৬ জন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থার ৪৫ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়ে বিসিবির ২৫ জন পরিচালক নির্বাচন করবেন। পরে পরিচালকরা ভোট দিয়ে সভাপতি নির্বাচন করবেন। এবার সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ। রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে শেষ মুহূর্তে হাজির হতে পারেন অন্য কেউও।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুসারে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন মূলত তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও বিভাগ থেকে ১০ জন পরিচালক নির্বাচিত হন নিজ নিজ বিভাগের কাউন্সিলরদের ভোটে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ থেকে দুজন করে এবং বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর থেকে একজন করে পরিচালক হবেন। এ ক্যাটাগরিতে মোট কাউন্সিলর ৭১ জন। ক্লাব ক্যাটাগরিতে ১২ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন ৭৬ জন কাউন্সিলরের ভোটে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা নিয়ে গঠিত তৃতীয় ক্যাটাগরির ৪৫ জন কাউন্সিলরের ভোটে পরিচালক হবেন একজন।
এ তিন ক্যাটাগরির বাইরে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কোটার পরিচালক। নাজমুল হাসান পাপনের সময় আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি ও জালাল ইউনুস এনএসসি কোটায় পরিচালক ছিলেন। এনএসসি কোটায় কোনো নির্বাচন হয় না। এনএসসি যাদের মনোনয়ন দেবেন, সরাসরি নির্বাচিত হবেন তারা। এনএসসি চাইলে ক্লাব, জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় যেকোনো কাউন্সিলরদের মধ্যে থেকে দুজনকে এনএসসি কোটায় পরিচালক মনোনীত করতে পারে।
পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শেষে হবে সভাপতি নির্বাচন। সভাপতি পদে সরাসরি ভোট হয় না। সভাপতি পদে নির্বাচিত হতে হলে প্রথমে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হতে হয়। পরিচালক নির্বাচিত হয়ে আসার পর পরিচালকদের মধ্যে একজন প্রস্তাব ও আরেকজনের সমর্থনের ভিত্তিতে সভাপতি নির্বাচিত হন।
বিভিন্ন ক্যাটাগরির কাউন্সিলর মিলিয়ে নির্বাচনে মোট ১৯২ জন ভোটার থাকার কথা থাকলেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নেই নরসিংদীর কোনো কাউন্সিলর।
তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেটের অনিয়ম নিয়ে দুদকের তদন্তে প্রকাশ্য অনুসন্ধানের সুপারিশ থাকায় বাদ দেয়া হয়েছিল ১৫টি ক্লাবকে। ক্লাবগুলো হলো এক্সিওম ক্রিকেটার্স, ঢাকা ক্রিকেট একাডেমি, মোহাম্মদপুর ক্রিকেট ক্লাব, নবাবগঞ্জ ক্রিকেট কোচিং একাডেমি, পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, ওল্ড ঢাকা ক্রিকেটার্স, ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমি, বনানী ক্রিকেট ক্লাব, নাখালপাড়া ক্রিকেটার্স, মহাখালী ক্রিকেট একাডেমি, ধানমন্ডি ক্রিকেট ক্লাব, প্যাসিফিক ক্রিকেট ক্লাব, স্যাফায়ার স্পোর্টিং ক্লাব ও আলফা স্পোর্টিং ক্লাব। যদিও পরে ১৫টি ক্লাবের কাউন্সিলরদের রেখেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে বিসিবির নির্বাচন কমিশন।
নাজমুল হাসান পাপনের সময় বিতর্কিত ১৮টি ক্লাব তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ের বৈতরণী পার হয়েছিল লিগ না খেলেই। প্রতি বছর বোর্ডের ঘনিষ্ঠদের দুটি করে ক্লাব নাম এন্ট্রি করত এবং তারাই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হয়ে তৃতীয় বিভাগে উঠত। এসব ক্লাবের তৃতীয় বিভাগ বাছাই পার হওয়ার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না বলে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়। দুদক বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য অনুসন্ধানের সুপারিশ করে। এ কারণে বিসিবির নির্বাচন কমিশন ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় বিতর্কিত ১৫টি ক্লাবকে রাখেনি।
তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ ছিল ক্লাবগুলোর। তাদের আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করে শুক্রবার প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিতর্কিত ১৫টি ক্লাবকেই রেখেছে নির্বাচন কমিশন।









