চোটের কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে অংশ নিতে পারেননি ইমরানুর রহমান। সেই খারাপ সময় পেছনে ফেলে দেশের দ্রুততম মানবের মুকুট পুনরুদ্ধার করলেন তিনি। আজ ন্যাশনাল স্টেডিয়াম, ঢাকায় জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে ছেলেদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, আর মেয়েদের ১০০ মিটারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শিরিন আক্তারকে হারিয়েছেন সুমাইয়া দেওয়ান।
গত জানুয়ারিতে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ইমরানুর খেলতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে দ্রুততম মানব হন মোহাম্মদ ইসমাইল। আজ ইমরানুরের সঙ্গে কেউ পেরে পারেননি। ৩২ বছর বয়সী এই স্প্রিন্টার আবার দেশের দ্রুততম মানব হয়েছেন।
জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৭তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসের প্রথম দিনে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন ইমরানুরই। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৬৪ সেকেন্ড (ইলেকট্রনিক টাইমিং) সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি।
দ্রুততম মানবের মুকুট হারানো ইসমাইল এবার হয়েছেন তৃতীয়। তিনি ফিনিশ লাইন ছুঁয়েছেন ১০.৮৮ সেকেন্ডে। ১০.৮৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দ্বিতীয় হয়েছেন আবদুল মোতালেব।
ইমরানুরের মতোই ১০০ মিটারে শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেলেন সুমাইয়া দেওয়ান। তিনি ১২ দশমিক ১৯ সেকেন্ড টাইমিং করে দ্রুততম মানবীর খেতাব জিতেছেন। দেশের সফলতম স্প্রিন্টার শিরিন আক্তার জমজমাট লড়াইয়ে হেরে দ্বিতীয় হয়েছেন, তিনি সময় নেন ১২ দশমিক ২১ সেকেন্ড। প্রথমে শিরিনকে জয়ী ঘোষণা করা হলেও পরে ফটোফিনিশিংয়ে সুমাইয়াকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। শিরিন এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান আয়োজক অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কাছে।
২০২২ সালে প্রথমবারের মতো ১০০ মিটারে সেরা হয়েছিলেন সুমাইয়া। আবার তিনি শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতলেন।
আজ বিকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন প্রতিযোগিতার কম্পিটিশন ডাইরেক্টর ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম।
দেশের অন্যতম বৃহৎ ও বর্ণাঢ্য এই ক্রীড়ানুষ্ঠানে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ২৬টি, ইউনির্ভাসিটি-৭টি, শারীরিক শিক্ষা কলেজ-৩টি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ জেল, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, বিকেএসপিসহ মোট ৪৩টি সংস্থার ৪৬৭ জন অ্যাথলেট অংশ নেন, যার মধ্যে ছেলে ৩৩১ জন, মেয়ে ১৩৬ জন ও প্রায় ৬০ জন ম্যানেজার ও কোচ এবং ১২০ জন টেকনিক্যাল অফিসিয়াল রয়েছেন। তিনদিন ব্যাপী প্রতিযোগিতায় ৪০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রথম দিনেই হয়েছে দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ড। ডিসকাস থ্রো (পুরুষ) ৪৬.৯৪ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন সেনাবাহিনীর আব্দুল আলিম। ২০১০ সালে একই সংস্থার আজহারুল ইসলাম তখন ৪৪.৯৮ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে রেকর্ড গড়েছিলেন।
শটপুট (মহিলা) ইভেন্টে জান্নাত বেগম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে ১৩.৯১ মিটার দুরত্ব অতিক্রম করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন। নৌবাহিনীর হয়ে জাকিয়া আক্তার ১৩.৫২ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন।









