তিন ম্যাচে অপরাজিত, কোনো গোল হজম করেনি, টানা ৩৪ ম্যাচ ধরে অপরাজিত, সব পরিসংখ্যানই লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের পক্ষে কথা বলছে। কিন্তু আজ দিবাগত রাত ১টায় মায়ামিতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের আগে স্পেনকে তাড়া করছে অন্য এক প্রশ্ন। প্রতিপক্ষ যখন পুরো দল নিয়ে নিজেদের বক্সের সামনে দেয়াল তুলে দাঁড়াবে, তখন কি সেই দেয়াল ভাঙতে পারবে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা?
গ্রুপ এইচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউটে উঠেছে স্পেন। শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসও পেয়েছে তারা। তবে ফল যতটা স্বস্তির, পারফরম্যান্স ততটা নির্ভুল ছিল না। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত গোল হজম করেননি গোলরক্ষক উনাই সিমন। তার ক্লিনশিটের ধারাবাহিকতা পৌঁছে গেছে ৪২৯ মিনিটে। কিন্তু রক্ষণ যতটা নিশ্চিন্ত, আক্রমণ নিয়ে ততটাই ভাবনা রয়েছে স্প্যানিশ শিবিরে।
সেই প্রশ্নের শুরু কেপ ভার্দের বিপক্ষেই। টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ নেয়া দলটির বিপক্ষে ৭৪ শতাংশ বলের দখল ছিল স্পেনের। নিয়েছিল ২৭টি শট, যার মাত্র সাতটি লক্ষ্যে ছিল। প্রতিপক্ষ নিচু রক্ষণে খেলেছে, মাঝমাঠ ও ডিফেন্সের মাঝখানে কোনো ফাঁক রাখেনি। স্পেন বল ঘুরিয়েছে, সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছে, কিন্তু গোলের তালা আর খোলা যায়নি। দৃশ্যটি নতুন নয়। ২০২২ বিশ্বকাপেও মরক্কোর বিপক্ষে একই সমস্যায় পড়েছিল স্পেন। বলের দখল ছিল, কিন্তু গোল ছিল না। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।
এ বিশ্বকাপেও শুরুর ম্যাচে উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। এপ্রিলের হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে দুজনকে নিয়ে ঝুঁকি নেননি দে লা ফুয়েন্তে। তাদের বদলে গাভি ও ফেরান তোরেসকে দুই প্রান্তে খেলানো হয়। ফলে আক্রমণে প্রয়োজনীয় গতি ও প্রস্থ দুটোই কমে যায়। কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেন ৩৯টি ক্রস করেও সফল হয় মাত্র আটটিতে। রক্ষণ থেকে মাঝমাঠ পর্যন্ত বল ঘোরানোয় কোনো সমস্যা হয়নি, কিন্তু শেষ তৃতীয়াংশে গিয়ে ধার হারিয়েছে তাদের আক্রমণ।
অবশ্য পরের ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছিল স্পেন। কিন্তু শেষ গ্রুপ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে আবারো অন্য ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়ে তারা। মার্সেলো বিয়েলসার দল শারীরিক লড়াইয়ে স্পেনকে চাপে রাখে।
অস্ট্রিয়ান কোচ রাংনিক দলকে অত্যন্ত হাই প্রেস ও ফিজিক্যাল ফুটবল খেলান। তবে স্পেনের মতো বল দখলে পারদর্শী দলের বিপক্ষে তিনি পুরো ম্যাচে একই উচ্চতায় প্রেস করার ঝুঁকি নাও নিতে পারেন। বরং নির্দিষ্ট মুহূর্তে তীব্র প্রেসিং, আর প্রেস ভাঙলে দ্রুত নিচু রক্ষণে নেমে জায়গা বন্ধ করে দেয়ার কৌশলই হতে পারে অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। রক্ষণে দুই লাইন কাছাকাছি রেখে পেদ্রি, গাভি কিংবা রদ্রির পাসিং লেন বন্ধ করা, বক্সের সামনে জায়গা সংকুচিত করা এবং স্পেনের উইঙ্গারদের টাচলাইনের দিকে ঠেলে দেয়া—এভাবেই ম্যাচের গতি নষ্ট করতে চাইবে অস্ট্রিয়া। আর বল কেড়ে নিলেই রাংনিকের দল চেষ্টা করবে দ্রুত উল্টো দৌড়ে উঠতে। স্পেনের ফুলব্যাকরা ওপরে উঠে গেলে তাদের পেছনের ফাঁকা জায়গাই হতে পারে অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় আক্রমণপথ।
তাই স্পেনের সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু ক্লিনশিট ধরে রাখা নয়, অস্ট্রিয়ান দেয়ালের সামনে বলের দখলের সৌন্দর্যকে গোলে রূপ দিতে হবে লা রোজাদের।














