লিঙ্গ পরিচয় বিতর্কে আবারো শিরোনামে এসেছেন আলজেরিয়ার অলিম্পিক বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ইমান খেলিফ। এই খেলার আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওয়ার্ল্ড বক্সিং শুক্রবার (৩০ মে) এক নতুন নীতি ঘোষণা করেছে যেখানে তাদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাওয়া সব বক্সারের জন্য বাধ্যতামূলক লিঙ্গ পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে ইমান খেলিফকে তার খেলা চালিয়ে যেতে হলে জেনেটিক সেক্স স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। খবর রয়টার্স।

গত বছর প্যারিস অলিম্পিকে নারীদের ওয়েল্টারওয়েট বিভাগে সোনা জিতেছিলেন খেলিফ। এর পর থেকেই তার লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। ওয়ার্ল্ড বক্সিংয়ের এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে ইমান খেলিফের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে— ‘ইমান খেলিফ বিশ্ব বক্সিংয়ের নিয়ম ও পরীক্ষা পদ্ধতি অনুযায়ী জেনেটিক সেক্স স্ক্রিনিং সম্পন্ন না করা পর্যন্ত তিনি কোনো ওয়ার্ল্ড বক্সিং ইভেন্টে নারী বিভাগে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।‘

সংস্থাটি আলজেরিয়ান বক্সিং ফেডারেশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছে যে, ইমান খেলিফ জেনেটিক সেক্স পরীক্ষা না করা পর্যন্ত আইন্দহোভেন বক্স কাপ বা অন্য কোনো ওয়ার্ল্ড বক্সিং ইভেন্টে তাকে নারী বিভাগে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে না।

নতুন নীতি অনুযায়ী, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যে সকল ক্রীড়াবিদ ওয়ার্ল্ড বক্সিং কর্তৃক অনুমোদিত বা পরিচালিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান, তাদের সবাইকে জন্মের সময় তাদের লিঙ্গ এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য একটি পিসিআর (পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) জেনেটিক পরীক্ষা করাতে হবে। জাতীয় ফেডারেশনগুলোকেই এ পরীক্ষা নিতে হবে।

গত মার্চে ইমান খেলিফ বলেছিলেন, ‘অন্য যেকোনো মেয়ের মতোই আমি নিজেকে একজন মেয়ে হিসেবে দেখি। আমি মেয়ে হয়ে জন্মেছি, মেয়ে হিসেবে বেড়ে উঠেছি এবং আমার সারা জীবন একজন মেয়ে হিসেবেই কাটিয়েছি।‘

তিনি আরো বলেন, ‘আমি টোকিও অলিম্পিক এবং অন্যান্য বড় প্রতিযোগিতাসহ অনেক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছি। সেসঙ্গে চারটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও। যখনই আমি সাফল্য পেতে শুরু করি তখনই আমার বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু হয়।‘

২৬ বছর বয়সী এই বক্সার বলেছেন যে, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন। তবে ওয়ার্ল্ড বক্সিংয়ের নতুন নীতি তার সামনে এক নতুন চ্যালেঞ্জ এনে দিয়েছে। এই পরীক্ষার ফলাফল তার বক্সিং ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।