সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। খেলা শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। একই মাঠে ২২ ও ২৪ নভেম্বর যথাক্রমে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ২২ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে পাকিস্তান ১৯টিতে ও বাংলাদেশ তিনটিতে জয়লাভ করেছে। দুই দল ছয়টি সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে পাকিস্তান পাঁচটি আর বাংলাদেশ মাত্র একটি জিতেছে।

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের সঙ্গে সাতটি টি-টোয়েন্টি খেলে পাঁচটিতে হেরেছে বাংলাদেশ, জয় এসেছে দুটিতে। এছাড়া পাকিস্তানের মাঠে ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ। ২০০৮ সালে করাচিতে ১০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। ২০২০ সালের সফরে লাহোরে দুটি ম্যাচ খেলে যথাক্রমে ৫ উইকেটে ও ৯ উইকেটে হেরে যায় মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বাধীন দল। সর্বশেষ গত মে মাসে পাকিস্তানের মাঠে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ২২ বারের মুখোমুখিতে ১৯টি জিতেছে পাকিস্তান, বাকি তিনটি জিতেছে বাংলাদেশ।

21

এর আগে ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরে তিন ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করে পাকিস্তান। সেবার তিনটি ম্যাচই হয়েছিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে, দ্বিতীয় ম্যাচে ৮ উইকেটে ও শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছিল বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন দল। এবারের দলে অবশ্য অনেক পরিবর্তন। এবারের সফরে পাকিস্তান দলে নেই বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো তারকা। হারিস রউফ আর ইফতিখার আহমেদও নেই। দলে একঝাঁক নতুন খেলোয়াড়। নেতৃত্বেও এসেছে পরিবর্তন। এখন পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্বে আছেন সালমান আলী আগা।

মিরপুরে পাকিস্তানকে হারানোর সৃখস্মৃতিও আছে বাংলাদেশের। ২০১৫ সালে সাব্বির রহমানের ঝড়ো ফিফটিতে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছিল টাইগাররা। পরের বছর শেরেবাংলায় এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানীর দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ১২৯ রান তুলতে সমর্থ হয়। জবাবে বাংলাদেশ শেষ ওভারে জয় তুলে নেয়। সৌম্য সরকার ৪৮ বলে ৪৮ রান করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন।

এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ২০০৮ সালে এক ম্যাচের হোম সিরিজে বাংলাদেশকে হারায় পাকিস্তান। ২০১২ সালের বাংলাদেশ সফরেও ফল একই। ২০১৫ সালের বাংলাদেশ সফরে এক ম্যাচের সিরিজেও জয়ী হয় পাকিস্তান। ২০২০ সালের পাকিস্তান সফরে ম্যাচে বাড়লেও বৃষ্টিতে কমে দুই ম্যাচের সিরিজ দাঁড়ায়। লাহোরে দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। এরপর ২০২১ সালে বাংলাদেশে ও ২০২৫ সালে ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে ৩-০তে সিরিজ হারায় পাকিস্তান।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক সাকিব আল হাসানকে দেখা যাবে না এ সিরিজে। তিনি অবশ্য গত পাকিস্তান সফরেও ছিলেন না। ‘রাজনৈতিক’ কারণে তিনি এখন জাতীয় দলের সেটআপের বাইরে আছেন। তিনি না থেকেও আছেন। কারণ দুই দলের মধ্যে তার করা সর্বোচ্চ ৩৬০ রান জ্বলজ্বল করছে। ২৭৭ রান নিয়ে দুইয়ে থাকা মোহাম্মদ হাফিজ অবসরে, আর ২৭৪ রান করে তিনে থাকা রিজওয়ান এ সিরিজে নেই।

শীর্ষ রান সংগ্রাহকের মতো শীর্ষ উইকেট শিকারি বোলারও নেই এ সিরিজে। সর্বোচ্চ ১২ উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানি স্পিনার শাদাব খান। এছাড়া হাসান আলী ১১ উইকেট, মোহাম্মদ ওয়াসিম ১০ উইকেট ও শহিদ আফ্রিদি ১০ উইকেট নিয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে পেস তারকা তাসকিন আহমেদ সর্বোচ্চ ৮ উইকেট নিয়েছেন।