ধারহীন আক্রমণ, ছন্দহীন মাঝমাঠ আর রক্ষণে বারবার ভুল—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে বিপাকে পড়েছিল ব্রাজিল। তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে করা এক দুর্দান্ত গোল সেলেসাওদের পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। তার ঝলকেই শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

আজ ভোরের ওই ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাভাবিক ছন্দে ছিল না ব্রাজিল। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বারবার চাপে পড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল। সেই সুযোগে ২৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের চমৎকার পাসে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেদ করে গোল করেন ইসমাইল সাইবারি।

গোল হজমের পরও ব্রাজিল খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। আক্রমণে ধারহীন দেখাচ্ছিল সেলেসাওদের। ঠিক তখনই এক ঝলক প্রতিভার প্রদর্শনী করেন ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বল পেয়ে ভেতরে কেটে এসে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান রিয়াল মাদ্রিদের এ উইঙ্গার। তার সেই গোলেই সমতায় ফেরে ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তি পরিবর্তন এনে ম্যাচের গতি বদলানোর চেষ্টা করেন। হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে বিরতির সময়ই তুলে নেয়া হয় কাসেমিরোকে। কিন্তু ব্রাজিল আর কাঙ্ক্ষিত গোল খুঁজে পায়নি। অন্যদিকে মরক্কোও রক্ষণ সামলে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত করে।

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি স্বীকার করেন, প্রথমার্ধে দলের খেলা প্রত্যাশামতো হয়নি এবং বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে তিনি শুরুর একাদশের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করতে রাজি নন।

এদিকে কোচের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন ভিনিসিয়ুস। আনচেলত্তির মতে, তিনি পুরো ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি ছিলেন এবং ভালো বিশ্বকাপ খেলার সব সামর্থ্য তার রয়েছে।

খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নেও ব্রাজিল দলে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস। গোলের পাশাপাশি আক্রমণে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ফুটবলার ছিলেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল পুরো তিন পয়েন্ট না পেলেও ভিনিসিয়ুসের ঝলকই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হয়ে থাকল।