বাংলাদেশ টি২০ ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব হারালেন মাহমুদউল্লাহ। আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরে তিন ম্যাচ সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দেবেন নুরুল হাসান সোহান। ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশ টি২০ দলকে নেতৃত্ব দেয়া মাহমুদউল্লাহ ব্যক্তিগত বিবর্ণ পারফরম্যান্স ও দলীয় দুর্বল ফলাফলের কারণে নেতৃত্ব হারালেন।
আজ শুক্রবার ঢাকার এক হোটেলে বাংলাদেশ
ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স পরিচালক জালাল ইউনুস, টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন ও নির্বাচক
প্যানেলের সঙ্গে বৈঠকের পর মাহমুদউল্লাহকে এ কথা জানিয়ে দেয়া হয়।
জিম্বাবুয়ে সফরের টি২০ দলে বেশ কিছু
পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি জিম্বাবুয়ে সফরে থাকবেন না। এমনকি
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শেষ দিকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও তিনি খেলেননি। এবার
জিম্বাবুয়ে সফর থেকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে নেতৃত্ব হারানো মাহমুদউল্লাহকে। আর হজ
করার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে না যাওয়া মুশফিকুর রহিমও নেই জিম্বাবুয়ে সফরের টি২০
দলে। সদ্যই টি২০ থেকে অবসর নেয়ায় অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকেও পাচ্ছে না
বাংলাদেশ।
ধারণা করা হচ্ছে, আপদকালীন
অধিনায়ক হিসেবেই বেছে নেয়া হয়েছে নুরুল হাসানকে। টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান
ছুটি থেকে ফেরার পর আগস্ট-সেপ্টেম্বরের
এশিয়া কাপেই হয়তো টি২০ দলের নেতৃত্বভার পাবেন।
জিম্বাবুয়ে সফরের টি২০ দলে অন্তর্ভুক্ত
হয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন, মেহেদী হাসান
মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত ও
হাসান মাহমুদ। মিরাজ তো টেস্ট ও ওয়ানডে দলের নিয়মিত মুখ, আর শান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনটি ওয়ানডে
ম্যাচেই খেলেছেন। এবার টি২০ দলেও সুযোগ পাচ্ছেন। এখনো অভিষেক না ঘটা ইমন বামহাতি
ব্যাটসম্যান, আর তিনটি
ওয়ানডে ও একটি টি২০ ম্যাচ খেলা হাসান মাহমুদ চোট থেকে সেরে উঠে দলে ডাক পেয়েছেন।
ওয়ানডে দলেও জায়গা করে নিয়েছেন হাসান
মাহমুদ। ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন চোট থেকে সেরে না ওঠেননি। আর খারাপ
পারফর্ম করায় বাদ পড়েছেন এবাদত হোসেন।
দল নিয়ে জালাল ইউনুস বলেন, টেস্ট ও টি২০ পারফরম্যান্স নিয়ে আমরা
পর্যালোচনা করছিলাম, যা মোটেও
সন্তোষজনক নয়। আমরা নেতৃত্বে পরিবর্তন এনেছি। জিম্বাবুয়ে সফরে টি২০ দলকে নেতৃত্ব
দেবে নুরুল হাসান। এই বৈঠকে আমরা বিষয়টি মাহমুদউল্লাহকে জানিয়ে দিয়েছি। আর দলে বেশ
কিছু পরিবর্তনও এনেছি আমরা। সিরিজে সাকিব নেই, আর
মুশফিককেও বিশ্রাম দিয়েছি আমরা। এতে তরুণদের আরো বেশি সুযোগ করে দিতে পারব।
টি২০ ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে
বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি ৪৩টি টি২০ ম্যাচে অধিনায়ক ছিলেন।
যদিও এসবের মধ্যে মাত্র ১৬টিতে দেশকে জয় এনে দিতে পেরেছেন, তার সময় দল হেরেছে ২৬টি। যদিও গত বছর তার
নেতৃত্বেই ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো পরাশক্তিকে হারানোর গৌরব
অর্জন করে বাংলাদেশ। যদিও নিজেদের মাঠে ঘূর্ণি উইকেট বানিয়ে সেই সাফল্য এসেছে বলে
সমালোচনাও আছে এবং পরবর্তীতে টি২০ বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভ পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে
ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের পর আটটি ম্যাচ খেলে মাত্র একটি
জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। এই আট ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ ১২.৮৭ গড়ে মাত্র ১০৩ রান করতে
সমর্থ হন। এই দুই কারণেই তিনি নেতৃত্ব খোয়ালেন।
তার জায়গায় আসা নুরুল হাসানেরও টি২০ রেকর্ড
বলার মতো কিছু নয়। ৩৩টি টি২০ ম্যাচে ১২.৯০ গড়ে তিনি ২৭১ রান করতে সমর্থ হন। যদিও
ঘরোয়া ক্রিকেটে তার নেতৃত্বে মুগ্ধ বিসিবি। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তিনি ৯৬.৬০ গড়ে
৪৮৩ রান করেন, চ্যাম্পিয়ন
হয় তার দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। তারই পুরস্কার পেলেন এবার জাতীয় দলের নেতৃত্ব
পেয়েছে।
বাংলাদেশ টি২০ স্কোয়াড:
মুনিম শাহরিয়ার, এনামুল হক
বিজয়, নুরুল হাসান (অধিনায়ক), লিটন দাস, আফিফ হোসেন, মেহেদী
হাসান, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল
ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, মোসাদ্দেক
হোসেন, নাজমুল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন।
বাংলাদেশ ওয়ানডে স্কোয়াড:
তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন ও তাইজুল ইসলাম।










