যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথম যৌথভাবে আয়োজক হচ্ছে তিনটি দেশ। এই আসর থেকে ফিফা রেকর্ড ১৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব সংগ্রহ করবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপসহ এ পর্যন্ত ২২টি আসরে যৌথ আয়োজনের ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবার। ২০০২ সালে বিশ্বকাপের যে আসরটির আয়োজন করেছিল পূর্ব এশিয়ার দুই দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। দুটি দেশের পর প্রথমবার দেখা যাবে তিনটি দেশের আয়োজনে বিশ্বকাপ।
উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের এ বিশ্বকাপে আরো অনেক কিছুই দেখা যাবে প্রথমবার। ১৯৯৮ সাল থেকে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ পর্যন্ত মহাযজ্ঞের সাতটি আসর হচ্ছে ৩২ দল নিয়ে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার দেখা যাবে ৪৮ দল। অর্থাৎ এ বিশ্বকাপে ১৬টি দল আরো বাড়বে। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত চারটি আসর হয়েছিল ২৪ দল নিয়ে। এর আগে ১৬ দল নিয়ে আটটি বিশ্বকাপ আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়া দুবার ১৩ দল ও একবার ১৫ দল নিয়ে বিশ্বকাপ হয়েছিল। বর্তমানে গ্রুপ পর্বে চারটি করে দল নিয়ে আটটি গ্রুপ তৈরি করা হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনটি করে দল নিয়ে হবে ১৬টি গ্রুপ। গ্রুপ পর্বে ১৬টি দল বিদায় নিলে বাকি ৩২ দল নিয়ে হবে নকআউট পর্ব।
ফিফা জানিয়েছে, তিনটি দেশের ১৬টি ভেন্যুতে হবে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি, মেক্সিকোর তিনটি ও কানাডার দুটি ভেন্যু।
মেক্সিকো প্রথম দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ তৃতীয়বার বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হবে। মেক্সিকো ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল এককভাবে। সেবার ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করে মেক্সিকো। সেবার ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৪ সালে এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র। ওইবার ফাইনাল গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ইতালিকে ৩-২ গোলে হারায় ব্রাজিল।
কানাডা আগে পুরুষদের বিশ্বকাপের আয়োজক হয়নি। ২০১৫ সালে নারী ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল দেশটি। পঞ্চম দেশ হিসেবে পুরুষ ও নারী দুই বিশ্বকাপেরই আয়োজক হতে চলেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রও ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালে নারী ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ফিফার জন্য আর্থিকভাবে বিরাট লাভের এক আসর। বিড কমিটির চেয়ারম্যান কার্লোস কর্ডেইরো জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার আয় হবে ফিফার। এর মধ্যে ১১ কোটি ডলার মুনাফা থাকবে সংস্থাটির।
কর্ডেইরো আরো বলেছেন, এ বিশ্বকাপে বিক্রি হতে পারে ৫৮ লাখ টিকিট। যেখান থেকে আয় হবে ২৫০ কোটি ডলার। ১০০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার আয় হবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা খাত থেকে। প্রথমবার ৫০০ কোটি ডলার আয় হতে পারে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে।










