ডানহাতি অফস্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জাদুকরি বোলিংয়ে আজ হারারেতে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে যায় জিম্বাবুয়ের। মাত্র ৩১ রানের মধ্যে জিম্বাবুয়ের প্রথম ৫ উইকেটই তুলে নেন তিনি। এরপরও আগের ম্যাচের নায়ক সিকান্দার রাজার হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশকে ১৩৬ রানের লক্ষ্য দিতে সমর্থ হয়েছে জিম্বাবুয়ে। যদিও ১৫ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে সফরকারী বাংলাদেশ।
রান তাড়া করতে নেমে ৩৭ রানের মাথায় মুনিম শাহরিয়ারের বিদায় ঘটলেও জয়
নিয়ে কখনই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি বাংলাদেশকে। লিটন দাসের হাফসেঞ্চুরিতে সব
সময় সঠিক পথেই থাকে অতিথিরা। লিটন ৩৩ বলে ৫৬ রান করে দেয়ার পর আফিফ হোসেন (৩০*) ও নাজমুল
হোসেন শান্তর
(১৯*) ব্যাটে
জয়ের বন্দরে নোঙর করে বাংলাদেশ। ৪৮ বলে ৫৫ রানে অবিচ্ছিন্ন থাকে এ জুটি।
এর আগে মোসাদ্দেকের ঘূর্ণি জাদু দেখেছে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠ।
প্রথম ওভারেই দুটি এবং এরপর টানা তিন ওভারে তিনটি উইকেট শিকার করেন তিনি। ৪ ওভারের
স্বপ্নের এক স্পেলে ২০ রানে তিনি নেন ৫ উইকেট। মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে যখন বেসামাল
স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা তখন রায়ান বার্লকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৮০ রানের পার্টনারশিপ
গড়ে জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন সিকান্দার রাজা। এই ডানহাতি ব্যাটার ৫৩
বলে ৬২ ও বার্ল ৩১ বলে ৩২ রান করেন।
ইলিয়াস সানী, সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের পর চতুর্থ বাংলাদেশী হিসেবে
টি২০তে ৫ উইকেট শিকার করলেন মোসাদ্দেক। সানী ২০১২ সালে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের
বিপক্ষে,
সাকিব ২০১৮
সালে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ও মুস্তাফিজ ২০১৬ সালে কলকাতায়
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে টি২০তে
বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারটা ইলিয়াস সানীর।
টি২০ ক্রিকেটে এর আগে ২১ রানে ২ উইকেটই ছিল মোসাদ্দেকের সেরা সাফল্য।
এবার নিলেন ৫ উইকেট। আর বাংলাদেশের কোনো ডানহাতি স্পিনারেরও এটাই সেরা বোলিং
ফিগার। আগের সেরা ছিল মাহমুদউল্লাহর ১০ রানে ৩ উইকেট। এছাড়া হাসান মাহমুদ ২৬ রানে
ও মুস্তাফিজুর ৩০ রানে একটি করে উইকেট নেন।
এই জয়ে সিরিজে সমতা আনল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেই
সিরিজের মীমাংসা হবে। এরপর দুই দল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে।










