ভুটানের ক্লাব ট্রান্সপোর্ট ইউনাইটেডে খেলার জন্য এ মাসেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ছাড়পত্র পান গোলরক্ষক রুপনা চাকমা ও ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন। এবার আরো চার নারী ফুটবলারকে ছাড়পত্র দিয়েছে বাফুফে। তারা হলেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা, মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা, ফরোয়ার্ড মাতসুশিমা সুমাইয়া ও সাবেক অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। এ চারজনকেই নিচ্ছে ভুটান প্রিমিয়ার লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন পারো এফসি।

আজ বণিক বার্তাকে এমনটাই জানিয়েছেন সর্বশেষ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পাওয়া ঋতুপর্ণা। কয়েক দিন আগেই তারা বাফুফের কাছ থেকে ছাড়পত্র পান। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা ৬ এপ্রিল ভুটান যাচ্ছি। আমাদের বাফুফে থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।’

এখন দেশ ছাড়ার অপেক্ষা। রুপনা-মাসুরার ট্রান্সপোর্ট ইউনাইটেডের হয়ে খেলার কথা থাকলেও এখনো তাদের ভুটান যাওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। তবে ঋতুপর্ণা, মনিকা, সুমাইয়া ও সাবিনার ৬ এপ্রিল ভুটানের বিমান ধরার কথা রয়েছে।

ঋতুপর্ণা বললেন, ‘বিদেশি লিগে খেলা সব সময়ই আনন্দের।’ সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের হয়ে আরো সাফল্য বয়ে আনতে চান। তিনি বলেন, ‘বিদেশি লিগে খেলতে পারলে অনেক কিছুই শেখা যায়। আমাদের অনেক অভিজ্ঞতাও হয়। সেই অভিজ্ঞতা আবার জাতীয় দলে কাজে লাগাতে পারি।’

এদিকে, ছুটিতে থাকা নারী দলের কোচ পিটার বাটলারও মনিকা-সাবিনাদের ভুটান লিগে খেলার খবর পেয়ে খুশি। সাবিনাদের শুভকামনা জানিয়ে তিনি এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘খুবই ভালো। তাদের জন্য শুভকামনা রইল।’

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, ঋতুপর্ণা, মনিকা, সুমাইয়া, সাবিনা, মাসুরা, রুপনা ছাড়াও মোসাম্মাৎ সাগরিকা ভুটানের লিগে খেলার প্রস্তাব পেয়েছেন। শিগগিরই ছাড়পত্র পেয়ে যেতে পারেন তিনি।

বিদেশি ক্লাবের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের নতুন নয়। এর আগে মালদ্বীপ ও ভারতের ঘরোয়া নারী লিগে খেলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাবিনা। কলকাতা ইস্ট বেঙ্গলের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ হয়েছে সানজিদা আক্তারের।

এরপর গত বছরের আগস্টে ভুটানের ক্লাব রয়্যাল থিম্পু কলেজ এফসির হয়ে খেলতে যান বাংলাদেশের সাবিনা, ঋতুপর্ণা, মারিয়া মান্দা ও মনিকা। তখন এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার জন্য তাদের নিয়েছিল ভুটানের ক্লাবটি।

১৫ এপ্রিল ভুটানের নারী লিগ শুরু হওয়ার কথা। এই লিগ প্রায় ছয় মাস চলে। ভুটানের লিগ চলাকালে এই খেলোয়াড়েরা জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেলে তারা ঢাকায় ফিরে আসবেন।