জোড়া গোল করেছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মিকেল ওয়ারজাবাল, আর একটি গোল এসেছে পেদ্রো পোরোর কাছ থেকে। পুরো ম্যাচে বলের দখল, সুযোগ সৃষ্টি এবং ছন্দ—সবকিছুতেই আধিপত্য দেখিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। দ্বিতীয় মিনিটেই লামিন ইয়ামালের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগার। এরপর একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখে স্পেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে। দানি ওলমোর ভলি, আয়মেরিক লাপোর্তের হেড কিংবা কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ—সবই সামলে দেন শ্লাগার ও তার ডিফেন্ডাররা।

২৯ মিনিটে কর্নার থেকে বল জালে পাঠিয়েছিলেন মার্ক কুকুরেয়া। তবে গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের অভিযোগে সেটি বাতিল করে দেন রেফারি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের আপত্তি থাকলেও ছন্দ হারায়নি তারা।

অবশেষে ৩৬ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা কুকুরেয়ার নিচু ক্রস বক্সে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ডান পায়ের শটে জালে পাঠান ওয়ারজাবাল। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আলেক্স বায়েনার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে ইয়ামালের শটও দুর্দান্তভাবে ঠেকান শ্লাগার।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। ৫৪ মিনিটে রদ্রির দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। অস্ট্রিয়া পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও গ্রেগরিশ, কালাইজডজিচ কিংবা বদলি হয়ে নামা মার্কো আরনাউতোভিচ কেউই স্পেনের রক্ষণে বড় পরীক্ষা নিতে পারেননি।

৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। কুকুরেয়ার পাস থেকে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলেক্স বায়েনা নিখুঁত ক্রস বাড়ান। সেখানে উঠে এসে কাছ থেকে হেডে গোল করেন রাইটব্যাক পেদ্রো পোরো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণে মরিয়া হয় অস্ট্রিয়া। ৭৯ মিনিটে কার্নি চুকুয়েমেকার জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে ম্যাচে ফেরার মতো ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে পারেনি তারা।

উল্টো শেষদিকে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে স্পেন। ৮৪ মিনিটে ইয়ামালের ঘুরে নেওয়া শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ডেভিড আলাবা। কিন্তু ৮৯ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। কুকুরেয়ার অসাধারণ থ্রু পাসে অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে একা এগিয়ে যান ওয়ারজাবাল। শ্লাগারকে পরাস্ত করে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।