উত্তর মেরুর হিমশীতল হাওয়া আর অরোরা বোরিয়ালিসের নিচে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। যে মাঠে সিটির রদ্রি-হাল্যান্ডের দাপিয়ে বেড়ানোর কথা ছিল, সেখানে দাপট দেখাল এক 'পুঁচকে' নরওয়েজীয় ক্লাব। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটিকে স্তব্ধ করে দিয়ে ৩-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বোডো/গ্লিম্ট।

নরওয়ের ছেলে আর্লিং হাল্যান্ড নিজের ঘরের মাঠের কাছে এসেও গোলমুখে ছিলেন বোতলবন্দি। ম্যাচের শুরু থেকেই সিটির ডিফেন্সকে নাচিয়ে ছাড়ে বোডো/গ্লিম্ট। প্রথমার্ধেই ক্যাসপার হগের জোড়া গোল গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়। সিটির ডিফেন্ডার ম্যাক্স অ্যালেন এবং নিকো ও'রাইলিকে কার্যত দর্শক বানিয়ে দুবারই বল জালে জড়ান হগ।

hogh

ক্যাসপার হগের দ্বিতীয় গোলের পর বোডো/গ্লিমট খেলোয়াড়দের উদযাপন। ছবি- রয়টার্স

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে আরো কোণঠাসা হয়ে পড়ে সিটি। ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় জেনস পিটার হাউগে রদ্রিকে কাটিয়ে এক দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করলে সিটির হার নিশ্চিত হয়ে যায়। যদিও এর দুই মিনিট পরেই রায়ান শেরকি সিটির হয়ে একটি গোল শোধ করেন, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

ম্যাচের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় যখন অধিনায়ক রদ্রি মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের সিটিকে নিয়ে এরপর ছেলেখেলা করে বোডো। পেপ গার্দিওলা সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে অসহায়ভাবে দেখলেন তার দলের টানা ব্যর্থতা।

২০১৭ সালেও নরওয়ের দ্বিতীয় বিভাগে খেলা এ ক্লাবটি আজ ইউরোপের অন্যতম সেরা দলকে হারিয়ে বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বোডো/গ্লিমট কোচ কেতিল নুডসেনের মতে, এটি তাদের সমর্থকদের জন্য সারাজীবন মনে রাখার মতো এক দিন। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে এখনো কোনো লিগ জয় না পাওয়া সিটির জন্য এই হার এক বিশাল বিপদসংকেত।

ম্যাচ শেষে আর্লিং হালান্ডের কণ্ঠে হতাশা, ‘এটা বিব্রতকর। আমি দায় নিচ্ছি।’ আর বোডো/গ্লিম্ট দেখাল—ফুটবল এখনো সাহস আর বিশ্বাসের খেলা।