বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) এখন থেকে ঢাকার ক্লাবগুলোর ভোটাধিকারে আর কোনো বৈষম্য থাকছে না। প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের সব ক্লাবই দিতে পারবে একটি করে ভোট। প্রতিটি ক্লাব থেকেই এখন থেকে একজন করে কাউন্সিলর থাকবেন। ২০১৩ থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকার ৭৬টি ক্লাব থেকে বিসিবিতে ছিলেন ৫৮ জন কাউন্সিলর। প্রিমিয়ার লিগের ১২ ক্লাব থেকে ১৮ জন, প্রথম বিভাগে ২০ ক্লাবে ২০ জন, দ্বিতীয় বিভাগে ২৪ ক্লাবে ১২ জন এবং তৃতীয় বিভাগে ২০ ক্লাবে ৮ জন কাউন্সিলর ছিলেন। নতুন নিয়মে ৭৬ ক্লাব থেকে ৭৬ জন কাউন্সিলর থাকবেন বোর্ডে।
আজ মঙ্গলবার বিসিবির চলতি বোর্ডের দ্বিতীয় বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে
কাউন্সিলরশিপে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিসিবির এজিএম শেষে সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, এখন যেহেতু প্রিমিয়ার লিগের
ক্লাবগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে, তাই আর সুপার লিগের ছয় ক্লাব থেকে দুজন করে কাউন্সিলর থাকার
প্রয়োজনীয়তা নেই।
২০১৩ সালে প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগ খেলা ছয় ক্লাব থেকে দুজন করে
কাউন্সিলরশিপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। পাপন জানান, তখন চ্যাম্পিয়নশিপ লড়াই শুধু আবাহনী-মোহামেডানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায়, অন্য দলগুলোকে ভালো দল গড়তে উত্সাহী
করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এখন আর সেই প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না পাপন। তিনি
বলেন, আগে আমরা দেখতাম আবাহনী ও মোহামেডানই
চ্যাম্পিয়ন দল বানাতো। বাকিরা শুধু খেলে যেত। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, প্রিমিয়ার লিগের সেরা ছয় দলের মধ্যে
থাকতে পারলে বোর্ডে দুজন করে কাউন্সিলরশিপ পাবে।
এ বিষয়টি নিয়ে তিনি আরো বলেন, এখন কিন্তু আর শিরোপা লড়াই দুই ক্লাবে সীমাবদ্ধ নয়। এবার শেখ জামাল
চ্যাম্পিয়ন হলো,
গাজী গ্রুপ বা
লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জও শিরোপা জিতেছে। শেখ জামাল চ্যাম্পিয়ন হলো। এখন সব দলই ভালো
দল বানায়,
চ্যাম্পিয়ন হতে
চায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেড়ে গেছে। এটাই তো আমাদের লক্ষ্য ছিল। এখন বাংলাদেশ
ক্রিকেট এমন একটা জায়গায় এসেছে ক্লাবগুলোর প্রত্যেকটিকে একটি করে কাউন্সিলরশিপ
দিলে কারো কোনো ক্ষোভ থাকার কথা নয়। বরং সবার খুশি হওয়ার কথা। প্রত্যেকেই এটাকে
স্বাগত জানিয়েছে এবং খুশি হয়েছে।
এদিকে,
আন্তর্জাতিক
ক্রিকেট কাউন্সিলের
(আইসিসি) আগামী ২০২৩ সাল থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত
ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে
(এফটিপি) বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া বাকি সবার
চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। পাপন মনে করেন, ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করার
কারণে আইসিসিতে যে অগ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে টাইগারদের, এটি তারই ফল। তিনি বলেন, অবশ্যই, আইসিসিতে বাংলাদেশকে এখন গুরুত্বপূর্ণ
দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর পেছনের কারণ বোর্ড না, পারফরম্যান্স। ক্রিকেট যেহেতু ভালো
করছে, সেজন্যই সবাই আগ্রহ দেখাচ্ছে।
২০২৩ থেকে ২০২৭ ক্যালেন্ডারে বাংলাদেশ দল ৩৪ টেস্ট, ৫৯ ওয়ানডে এবং ৫১ টি২০ ম্যাচ খেলবে।
সব সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচ ১৪৪টি। এ সময়ে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর বিপক্ষে
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অতীতে বাংলাদেশ কখনোই এতো ম্যাচ পায়নি।
পাপন বলেন,
আগে সবাই
আমাদের এখানে এসে খেলতে চাইত। তাদের দেশে নিতে চাইত না। ওরা ধরে নিত দর্শকরা
বাংলাদেশের খেলা দেখবে না। এখন আমাদের এখানে আসতে চায় না, ওদের দেশে ডাকছে। এটা ইতিবাচক সংকেত।
আমরাও শিখতে পারব,
আমাদের জন্যও
ভালো হবে। আমরা তো বাইরে গিয়ে এত খেলা খেলিনি।
তবে এই পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো
সিরিজ নেই। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পাপন বলেন, এফটিপি এখনো চূড়ান্ত নয়। আমরা এ নিয়ে আলোচনা করব। আসবে ওরা, আসবে না কেন।
এদিকে, এজিএমে গঠনতন্ত্রে আরেকটি পরিবর্তন
এনেছে বিসিবি। আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার কাঠামো।
ক্লাবপর্যায়ে কাউন্সিলরশিপ দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে প্রতিটি ক্রিকেট ক্লাবকে
আনা হয়েছে একই সমতায়।
পাপন বলেন,
এত দিন আমরা
ঢাকা থেকে সব নিয়ন্ত্রণ করে এসেছি। এখন ঢাকা থেকে বিভাগে যাচ্ছি। জেলায় তো আমাদের
আরও কম নিয়ন্ত্রণ ছিল। এখন এর কার্যক্রম শুরু হয়ে গেল, এসব ক্ষেত্রে আমরা আরো ভালো করতে
পারব। আশা করছি আমাদের পরবর্তী বোর্ড সভার আগেই কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।










