আজ শনিবার সিটি গ্রুপ-প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারে ‘বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কৃতী ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা। পাঠকের ভোটেও তিনি বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হয়েছেন। তার এ আনন্দ দ্বিগুণ হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক ঘোষণায়। শনিবার বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার সভায় উঠে আসে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নানা দিক। সেখানে এজেন্ডায় ছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমাও। বাংলাদেশকে অনেক সাফল্য এনে দেয়া ফুটবল তারকার বাড়ি নির্মাণ করে দেবে বিসিবি।

বিসিবির সভা শেষে শনিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে এটি জানান বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান। এর মধ্যেই প্রকৌশলীর মাধ্যমে বাড়িটির নকশা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কিছু চূড়ান্ত হয়েছে এবং তা বিসিবির কাছে পাঠিয়েছে ঋতুপর্ণার পরিবার। বোর্ড সভায় সেটির অনুমোদন দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

গত মাসে উইমেনস এশিয়া কাপের বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। দলের সেই সাফল্য যাত্রায় অসাধারণ পারফর্ম করেন ঋতুপর্ণা। তিনি করেন পাঁচ গোল। গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দলের শিরোপা ধরে রাখার আসরেও ঋতুপর্ণা ছিলেন উজ্জ্বল। ফাইনালে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে তার গোলই গড়ে দিয়েছিল ম্যাচের ভাগ্য। আসরের সেরা ফুটবালের পুরস্কার জিতেছিলেন এই ফরোয়ার্ডই।

ঋতুপর্ণার বাড়ি রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মঘাছড়ি গ্রামে। অনেক দিন ধরেই জরাজীর্ণ বাড়িতে বসবাস তাদের। পরিবারের মূল চালিকাশক্তি ঋতুপর্ণাই, অনেক দিন ধরেই তার আয়ে চলছে সংসার। বাবা ও একমাত্র ভাইকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্বও তারই। ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হয় তাকেই। ঋতুপর্ণার বাড়ির জীর্ণ অবস্থা দেখেই তার বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি।

এর আগেও সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে অর্থ পুরস্কার প্রদানসহ নানা সময়ে নানাভাবে ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য ফেডারেশন ও খেলোয়াড়দের পাশে থেকেছে বিসিবি। হকির পাশেও দাঁড়িয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। এবার ঋতুপর্ণার পাশে দাঁড়াল সংস্থাটি।

rituporna bangladesh

শনিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানে পুরস্কার হাতে নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাঙ্গামাটির এ কৃতী সন্তান বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা শুধু এশিয়া নয়, বিশ্বমঞ্চেও নিয়ে যেতে চাই।’ এ পুরস্কারটি নেন কিংবদন্তি দাবাড়ু রানী হামিদের হাত থেকে।

বর্ষসেরা হওয়ার রেসে ঋতুপর্ণা হারিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদকে। মিরাজ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ও তাসকিন কৃতী পেস বোলার। মিরাজ প্রথম রানারআপ ও তাসকিন দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এখন তুমুল জনপ্রিয় ঋতুপর্ণা চাকমা। দুটি বড় আসরে আলো ছড়ানো এ খেলোয়াড়কে পুরস্কার গ্রহণের পর সঞ্চালক বললেন, কান পাতলেই বাংলার আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয় ঋতুপর্ণা চাকমা। পুরস্কারটি পেয়ে কেমন লাগছে? এর জবাবে লাস্যময়ী ঋতুপর্ণা বললেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ। পরিবার থেকে টিমমেটদেরও ধন্যবাদ। এটা আমার জন্য বড় অর্জন।’

সবাই তার বাম পায়ের জাদুতে বিমোহিত। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘জাদু বলতে কিছু নেই। এটা হলো কঠোর পরিশ্রম।’

বর্ষসেরা হিসেবে ২ লাখ ও পাঠকের ভোটে সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে ১ লাখ টাকা প্রাইজমানি পেয়েছেন ঋতুপর্ণা চাকমা।