‘ভাইকিং যোদ্ধা’ আর্লিং হালান্ড জোড়া গোলে সেলেসাওদের ‘হেক্সা’র স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছেন। হালান্ড থাকায় নরওয়ে হয়ে উঠেছে ভয়ংকর এক প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে জিততে হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে তৈরি হতে হবে থ্রি লায়নসদের। মেক্সিকো জয়ের পর আর নরওয়ে ম্যাচের আগে এখন তাই শান্ত থাকতে চান ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও তার সতীর্থরা।
টমাস টুখেলের দল সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা আর বৈরী কন্ডিশনের বিরুদ্ধে লড়ে মেক্সিকোকে হারিয়েছে। এ জয়ের পর কেইনদের সামনে এখন কয়েকদিনের ‘ছুটি’। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ৩টায় মায়ামিতে শেষ আটে তারা মুখোমুখি হবে নরওয়ের, যারা হারিয়ে এসেছে পরাশক্তি ব্রাজিলকে। পরের ম্যাচ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় কেইন বলেন, ‘পরের রাউন্ড। অবিশ্বাস্য রাত। আমরা অভাবনীয় সমর্থন পেয়েছি। আমরা এখন রিকভারি করছি। শান্ত আছি। ক্লান্তি তাড়ানোর কয়েকটা দিন সময় পাচ্ছি। এরপর আমাদের সামনে বড় একটি ম্যাচ।’
আজতেকায় কেইনের দ্বিতীয়ার্ধের পেনাল্টি গোল ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে। ওই ম্যাচে এক গোলে অ্যাসিস্টও করে কেইন। এছাড়া তার ফাউলে মেক্সিকো একটি পেনাল্টি পায়। সব মিলিয়ে প্রাণবন্ত একটি ম্যাচ খেলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক, যা তার কাছে থ্রি লায়নসদের জার্সিতে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা।
কেইন বলেন, ‘অমন পরিবেশে, আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচ খেলতে নামাটাই ছিল বিশেষ অনুভূতির। আইকনিক স্টেডিয়ামটিতে খেলতে নামার জন্য সবাই বেশ শিহরিত ছিল। সত্য বলতে কী, ম্যাচে বৈরী পরিবেশে আমরা যেভাবে লড়াই করেছি, ছেলেরা মাঠের প্রতিটি ইঞ্চি ঘাসও যেন অরক্ষিত রাখেনি, তাই এ লড়াই ছিল আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য। কোনো সন্দেহ নেই, ইংল্যান্ডের জার্সিতে এটা আমার অন্যতম প্রিয় ম্যাচ হয়ে থাকবে। পুরো কৃতিত্ব ছেলেদের। সবাইকে নিয়ে আমি গর্বিত।’
হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহ্যাম যুগলবন্দিতে ছুটছে ইংল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের করা ১১ গোলের ১০টিই করেছেন এ দুজন! কেইন করেছেন ছয় গোল, বেলিংহ্যাম চারটি। মেক্সিকোর বিপক্ষে বেলিংহ্যাম প্রথমে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-০তে লিড এনে দেন। হুলিয়ান কুইনোনেস ব্যবধান কমানোর পর পেনাল্টি থেকে গোল করে আবার ব্যবধান বাড়িয়েছেন কেইন (৩-১)।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বাকি গোলটি করেছেন মার্কাস র্যাশফোর্ড। অর্থাৎ দলের গোলের ৯০.৯ শতাংশ অবদানই কেইন ও বেলিংহ্যামের। এটা চলতি আসরে সব দলের মধ্যে সেরা। টুর্নামেন্ট ফেভারিট ফ্রান্সের মোট গোলের ৭৮.৬ শতাংশ করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে (সাত) ও ওসমান দেম্বেলে (চার)। দলের ১৪ গোলের মধ্যে দুজন করেছেন ১১ গোল।














