গ্রীষ্মের দলবদলের দরজা বন্ধ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। কিন্তু দলবদল হয়নি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ২০২২-২৩ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এজন্য ইউরোপের সেরা মঞ্চে খেলতে ম্যানইউ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। কিন্তু সেটি আর হলো না।
পুরো ক্লাব ক্যারিয়ারে কখনো এমন দৃশ্য দেখতে হয়নি রোনালদোকে। অবনমিত হয়ে তার ক্লাব খেলবে ইউরোপা লিগে। ক্যারিয়ারে কখনই তিনি ইউরোপা লিগে খেলেননি।
ওলে গুনার সোলশার বিদায় নেয়ার পর ডাচ কোচ এরিক টেন হ্যাগ মৌসুমের শুরু থেকে ক্লাবের দায়িত্ব নেন। কিন্তু মৌসুম শুরুর আগেই জানানো হয়, কোচের পরিকল্পনায় নেই পর্তুগালের সুপারস্টার। অথচ এ রোনালদোকে মধ্যমণি করেই তো একসময় ছক কষতেন কোচরা।
গত এক যুগের বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বে মেসির সঙ্গে রাজত্ব করছেন রোনালদো। জিতেছেন পাঁচটি ব্যালন ডি’অর, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন ‘শু’ রয়েছে চারটি। ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ২০০২-০৩ মৌসুমে স্পোর্টিং সিপির হয়ে সিনিয়র ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু হয়। ম্যানইউর হয়ে দুবারের চুক্তিতে খেলছেন আট মৌসুম। ২০০৯-১০ থেকে নিজের সোনালি সময় কাটানো রিয়াল মাদ্রিদে খেলেছেন ৯ মৌসুম। ২০১৮-১৯ থেকে তিন মৌসুম খেলেছেন ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের হয়ে। এ চারটি ক্লাবের হয়ে ৯৩৮ ম্যাচে করেছেন ৬৯৮ গোল, সঙ্গে অ্যাসিস্ট করেছেন ২২১টি। পর্তুগালের জার্সিতে ১৮৯ ম্যাচে ১১৭ গোল করেছেন।
গত মৌসুমেও ম্যানইউর হয়ে সর্বোচ্চ ২৪ গোল করেছেন, যা লিগে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ৩৭ বছর বয়সী রোনালদোর পারফরম্যান্স খুব খারাপ ছিল না কিংবা চোটও নেই যে তিনি ক্লাবের প্ল্যানে থাকবেন না। তবে স্কোয়াডের এ বেস্ট প্লেয়ারকেই টানা তিন ম্যাচ শুরুর একাদশে রাখেননি কোচ এরিক টেন হাগ।১৭ বছর পর টানা তিন ম্যাচ নিয়মিত একাদশে সুযোগ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা হলো সিআরসেভেনের। সর্বশেষ টানা তিন ম্যাচ বেঞ্চে কাটিয়েছেন ২০০৫ সালে। তখন তিনি ম্যানইউর তরুণ খেলোয়াড়। ২০০৩ সালে স্পোর্টিং লিসবন থেকে ম্যানচেস্টারে আসেন রোনালদো।
বায়ার্ন মিউনিখ, চেলসি, বার্সেলোনা, পিএসজি, রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মতো ক্লাবে দলবদলের গুঞ্জন ওঠে তার। কিন্তু তাকে নিতে হলে ৩০ মিলিয়ন ইউরোর একটা অংক গুনতে হতো। সর্বশেষ নাপোলি ও ম্যানইউর মধ্যে রোনালদোকে নিয়ে একটি ‘অদলবদল’
চুক্তির কথা উঠলেও তা আর হয়নি।
ট্রান্সফারমার্কেট ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো ক্লাব এত টাকা খরচ করে ৩৭ বছর বয়সী একজন খেলোয়াড়কে নিতে চাচ্ছে না। তাকে নিলে বেতনও গুনতে হবে অনেক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করা নাপোলির মতো দলগুলোর জন্য তা বহন করা কঠিন হবে।
কিছুদিন আগে বায়ার্নের প্রধান নির্বাহী অলিভার কানও এমনই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেছেন, রোনালদো বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার অনেক প্রশংসা করলেও আমাদের দর্শন আর বর্তমান অবস্থার সঙ্গে সে মানানসই হচ্ছে না।
তাহলে রোনালদোর পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হবে? ইউরোপের টপ ক্লাবগুলো আর চায় না তাকে। বয়সের সঙ্গে রোনালদোও হয়তো বড় মঞ্চের শেষ অধ্যায় পার করছেন।










