হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আজ তৃতীয় ও শেষ টি২০ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেয়া জিম্বাবুয়ে ৬৭ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। তাদের দলীয় সংগ্রহ ১০০ হয় কিনা, তা নিয়েই ছিল ঘোর সংশয়। অথচ সেই জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৫৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় রায়ান বার্লের বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে। বার্লের এই ব্যাটিংই স্বাগতিকদের উজ্জীবিত করে দেয়। পরে বোলিংয়েও দুর্দান্ত পারফর্ম করে তারা। চাপের মুখে অতিথিরা ৮ উইকেটে ১৪৬ রান তুলতে সমর্থ হয়। ১০ রানের এই জয়ে তিন ম্যাচ টি২০ সিরিজ জিতে নিল জিম্বাবুয়ে।

 

উল্লেখ্য, দুই দেশের দ্বৈরথের ইতিহাসে এই প্রথম টি২০ সিরিজে বাংলাদেশকে হারাতে পারল জিম্বাবুয়ে।

 

জিম্বাবুয়ের ভিক্টর নিয়াউচি (৩/২৯) ও ব্র্যাড ইভানসের (২/২৬) দারুণ বোলিংয়ের মুখে বাংলাদেশের কেউই প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার মতো ব্যাটিং করতে পারেননি। আফিফ হোসেনের ২৭ বলে খেলা ৩৯ রানের হার না মানা ইনিংসটা শুধু হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। এছাড়া ২৭ বলে ২৭, মেহেদী হাসান ১৭ বলে ২২ রান করেন।

 

এর আগে ৬ উইকেট পতনের পর লুক জঙ্গোইকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে মাত্র ৩১ বলে ৭৯ রান বোর্ডে তুলে জিম্বাবুয়েকে চাপমুক্ত করেন বার্ল। জঙ্গোই ২০ বলে ৩৫ ও বার্ল ২৮ বলে ৫৪ রান করেন। এ পথে নাসুম আহমেদের এক ওভার থেকেই ৫ ছক্কা ও এক চারের সাহায্যে ৩৪ রান তোলার কৃতিত্ব দেখান বার্ল। তিনি ইনিংস সাজান ৬টি ছক্কা ও দুটি চারের সাহায্যে।

 

অথচ বার্ল ও জঙ্গোইর অভাবনীয় ব্যাটিংয়ে আগে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ। নাসুম নিজের প্রথম বলেই রেগিস চাকাভাবে আউট করেন। ষষ্ঠ ওভারে পরপর দুই বলে ওয়েসলে মাদেভেরে ও সিকান্দার রাজাকে সাজঘরে ফেরান আরেক স্পিনার মেহেদী হাসান। মাত্র ২ রানে শন উইলিয়ামস শিকার হন মোসাদ্দেক হোসেনের।

 

অপ্রত্যাশিতভাবে দলে আসা মাহমুদউল্লাহ প্রথম বলেই আউট করেন ক্রেগ আরভিনকে। তার বলে আরভিনকে স্ট্যাম্পিং করেন এনামুল হক বিজয়। এরপর মিলটন মুম্বাকে (৪) দ্রুতই ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান।

 

এই ৬ উইকেট পতনে স্বাগতিকরা যখন ধুঁকছিলেন তখন সাহসী ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের চিত্রটাই পাল্টে দেন বার্ল ও জঙ্গোই। তারা একের পর এক চার-ছক্কায় টাইগারদের হতাশ করতে থাকেন। একটি পর্যায়ে দল পেয়ে যায় ১৫৬ রানের ভালো সংগ্রহ। বার্ল ও জঙ্গোইকে আউট করে জিম্বাবুয়ের রানটা ১৬০ এর নিচেই রাখতে ভূমিকা রাখেন পেসার হাসান মাহমুদ।

 

এই ম্যাচে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। মুনিম শাহরিয়ারের জায়গায় এসেছেন পারভেন হোসেন ইমন। এছাড়া উইকেট কিপার ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান ও পেসার শরিফুল ইসলামের জায়গায় একাদশে এসেছেন যথাক্রমে অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ ও স্পিনার নাসুম আহমেদ।

 

নুরুল হাসান আঙুলের চোটে পড়ায় এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোসাদ্দেক হোসেন। আর শেষ মুহূর্তে একাদশে ডাক পাওয়া মাহমুদউল্লাহ মূলত টি২০ সিরিজেই ছিলেন না, তাকে বিশ্রাম দিয়েছিল বোর্ড। অবশ্য ওয়ানডে সিরিজ খেলতে তিনি এরই মধ্যে পৌঁছে যান জিম্বাবুয়েতে। ফলে সুযোগ মিলে যায় শেষ টি২০তে খেলার।

 

জিম্বাবুয়ে দলেও তিনটি পরিবর্তন। জন মাসারা, ভিক্টর নিয়াউচি ও ব্র্যাড ইভানস একাদশে ঢুকেছেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, রিচার্ড এনগারাভা ও তানাকা চিভাঙ্গার জায়গায়।