আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় এবং লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কিন্তু কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপ শিরোপা রক্ষার অভিযানের প্রথম ম্যাচে কেমন করলেন দলের বাকি সদস্যরা।
ম্যাচের শুরুতে আলজেরিয়ার দ্রুতগতির আক্রমণে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। সে সময় গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের শান্ত উপস্থিতি দলকে স্থিরতা দেয়। খুব বেশি সেভ করতে না হলেও বল পায়ে তার আত্মবিশ্বাসী খেলা এবং দূরপাল্লার পাস আর্জেন্টিনার আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয় গোলের সূচনাও আসে তার লম্বা পাস থেকে।
রক্ষণভাগে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। একাধিক ক্লিয়ারেন্স, ট্যাকল ও ইন্টারসেপশনের মাধ্যমে তিনি আলজেরিয়ার আক্রমণ ভেঙে দেন। তার সঙ্গে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোও ছিলেন সমান নির্ভরযোগ্য। পুরো ম্যাচে আলজেরিয়া একটিও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি, যা এই দুই সেন্টার-ব্যাকের কার্যকারিতারই প্রতিফলন। বামদিকে ফাকুন্দো মেদিনা প্রতিপক্ষের উইঙ্গারদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন, আর ডানদিকে গনসালো মন্তিয়েল প্রথমার্ধে রক্ষণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে বিরতির পর মাঠ ছাড়েন। তার বদলি নাহুয়েল মোলিনাও দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স উপহার দেন।

লিওনেল মেসি। ছবি: এপি
মাঝমাঠে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন রদ্রিগো ডি পল। মেসির প্রথম গোলের আগে তার নিখুঁত থ্রু পাস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শুধু সৃজনশীলতাই নয়, বল পুনরুদ্ধার এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্ট করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এনজো ফার্নান্দেজ পুরো ম্যাচে পাসিংয়ের ছন্দ ধরে রেখে আর্জেন্টিনার বলের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেন। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারও দুই প্রান্তে সমান কার্যকর ছিলেন। তার দূরপাল্লার শট প্রতিহত করলেও সেখান থেকেই মেসির দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি হয়। থিয়াগো আলমাদা ম্যাচে বড় কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি।
আক্রমণভাগে মেসির পাশে শুরু করা লাউতারো মার্টিনেজ ছিলেন তুলনামূলক হতাশাজনক। শুরুতেই অফসাইডের কারণে একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ নষ্ট হয় তার। পুরো ম্যাচেই তাকে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত মনে হয়েছে। ইনজুরি থেকে ফেরা হুলিয়ান আলভারেজও বদলি হিসেবে নেমে নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাননি।
তবে বেঞ্চ থেকে নেমে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেন নিকোলাস গনসালেজ। মাঠে নামার পরই আক্রমণে গতি বাড়ান এবং মেসির হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা গোলটির অ্যাসিস্টও করেন তিনি। অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি শেষদিকে নেমে রক্ষণে স্থিতি যোগ করেন। তরুণ নিকো পাজও স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতে ইতিবাচক ছাপ রেখে যান।
সবশেষে অবশ্য ম্যাচটি মেসিরই। তিনটি গোল, একাধিক রেকর্ড এবং বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথম হ্যাটট্রিক—সবকিছুই তার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে।
গোল ডটকম অবলম্বনে














