সব জল্পনা-কল্পনা শেষে দেশে সিনেমা আমদানির অনুমতি দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। সে ধারাবাহিকতায় প্রথম হিন্দি সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে ‘পাঠান’। আগামী ৫ মে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে শাহরুখ-দীপিকা অভিনীত সিনেমাটি।

সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় নতুন করে উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। দুই বছরের জন্য পাঁচটি শর্তে উপমহাদেশীয় সিনেমা আমদানির অনুমতি পেলেন দেশীয় প্রযোজক-পরিবেশকরা। শর্ত মেনে পাঠান বাংলাদেশে আমদানি করছে অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অনন্য মামুন বলেন, ‘‌ দেশে পাঠান মুক্তি পেতে যাচ্ছে ৫ মে। সবার প্রচেষ্টাতেই এটা সম্ভব হয়েছে। সরকার দুই বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সিনেমা আমদানির অনুমতি দিয়েছে। দুই বছর পর সরকার আবার সিধান্ত নেবে আমদানি আর করা হবে কিনা। আসলে দুই বছর পরই বলা যাবে এ সিনেমা অনুমতি আমাদের জন্য কতটুকু উপকার কিংবা অপকার নিয়ে এসেছে দেশে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা অবশ্যই আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসবে। বাকিটা সময় বলে দিবে।’

বাংলাদেশে পাঠান সিঙ্গেল স্ক্রিন নাকি মাল্টিপ্লেক্স কোথায় দেখানো হবে এটি জানতে চাইলে মামুন বলেন, ‘‌সবার জন্যই সিনেমাটা সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্স দুটোতেই আসবে। এমনকি যাতে করে সিঙ্গেল স্ক্রিনে সিনেমাটি দেখে দর্শকের ভালো লাগে, এজন্য কয়েকটি হলে সার্ভার বসানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে, ৪০-৪৫টা হলে আসতে যাচ্ছে পাঠান।’

পাঠানের পর আর কোনো সিনেমা আসতে যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে অনন্য মামুন বলেন, ‘‌আমাদের পরিকল্পনা আছে সালমান খানের কিসি কা ভাই কিসি কি জান সিনেমাটি মুক্তি দেয়ার। আমি সবসময় দেশে উপমহাদেশীয় সিনেমা আমদানি করার পক্ষে ছিলাম। চেষ্টা করি নতুন কিছু করার। দেখা যাক কী হয়।’

সাফটা চুক্তির আওতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ বছর ১০টি হিন্দি সিনেমা আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আগামী বছর দেশে আটটি হিন্দি সিনেমা মুক্তি পাবে। এ বিষয়ে পাঁচ শর্ত দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করছে মন্ত্রণালয়।

যে পাঁচ শর্তে আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে:

ক. বাংলাদেশের বৈধ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশকরা উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র আমদানি করার সুযোগ পাবেন।

খ. উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র বাংলা সাবটাইটেলসহ পরীক্ষামূলকভাবে শুধু দুই বছরের জন্য রফতানির বিপরীতে আমদানি করার সুযোগ থাকবে।

গ. প্রথম বছর ১০টি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র রফতানির বিপরীতে সমানসংখ্যক চলচ্চিত্র আমদানি করতে পারবে।

ঘ. আমদানীকৃত উপমহাদেশীয় ভাষার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পূর্বে অবশ্যই বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের সনদ গ্রহণ করতে হবে। এবং

ঙ. বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও দুর্গা পূজার সপ্তাহে এ আদেশবলে আমদানীকৃত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

সব শর্ত মেনে পাঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে উপমহাদেশীয় সিনেমা আমদানির নতুন যাত্রা। গত ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পায় পাঠান। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত পাঠানের মূল চমক শাহরুখ খান। চার বছর পর এ সিনেমার মধ্য দিয়েই বড় পর্দায় ফিরেছেন বলিউডের বাদশাহ। শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও জন আব্রাহাম অভিনীত সিনেমাটি এরই মাঝ ১ হাজার কোটি রুপি আয় করে নিয়েছে বিশ্বব্যাপী। এবার আমাদের দেশে পাঠান কীভাবে দর্শক গ্রহণ করে সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৫ মে পর্যন্ত।