কখনো কখনো টেলিভিশনের কোনো চরিত্র পর্দা পেরিয়ে হয়ে উঠে মানুষের স্মৃতির অংশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিরিজ শেষ হয়ে যায়, প্রিয় চরিত্র বিদায় নেয়, কিন্তু তাদের চেহারা, পোশাক, সংলাপ কিংবা কোনো একটি দৃশ্য থেকে যায় মানুষের স্মৃতির ভাঁজে। ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’ তেমনই এক নাম। তিনটি ডেস্কে বেজে ওঠা সেই বিখ্যাত স্পিকার ফোন, আর ওপাশ থেকে ভেসে আসা গম্ভীর গলা—‘হ্যালো অ্যাঞ্জেলস!’ ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১; টানা পাঁচ মৌসুমে রহস্যময় চার্লির ইশারায় যে তিন নারী গোয়েন্দা টেলিভিশনের পর্দায় অপরাধের রহস্য সমাধানের ক্ষুরধার অভিনয় দিয়ে কাঁপিয়েছিলেন বিশ্বমঞ্চ, দীর্ঘ অর্ধশতক পর তারা আবার এক মিশনে। তবে এবার কোনো অপরাধীকে ধরতে নয়, বরং স্মৃতির পর্দা সরাতে।
গত সোমবার রাতে ৭৮তম এমি মঞ্চে সেরা ড্রামা সিরিজের পুরস্কার প্রদানের লক্ষ্যে একত্র হন ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’-এর তিন পরিচিত মুখ কেট জ্যাকসন, শেরিল ল্যাড ও জ্যাকলিন স্মিথ। সেরা ড্রামা সিরিজের এমি পুরস্কার ‘দ্য পিট’-এর হাতে তুলে দেয়ার আগে তারা স্মরণ করেন তাদের প্রয়াত সহশিল্পী ফারাহ ফসেটকে। কেট জ্যাকসন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল অ্যাঞ্জেল ছিলেন ফসেট।’ শেরিল ল্যাড যোগ করেন, ‘তার সেই আইকনিক পোস্টার এখনো হয়তো বহু পুরুষের স্মৃতিতে এমনকি অনেকের গ্যারেজেও জায়গা করে আছে।’
সত্তর দশকের টেলিভিশনে চাবুক আর শিকল হাতে অপরাধ দমনের এ আইকনিক গল্পের স্ক্রিপ্টকে একের পর এক নেটওয়ার্ক প্রত্যাখ্যান করেছিল। প্রস্তাবটা যখন প্রথম কেট জ্যাকসনের কাছে এসেছিল, তার মুখেও ফুটে উঠেছিল বিদ্রূপের হাসি। প্রযোজক লিওনার্ড গোল্ডবার্গ যখন তাকে ‘অ্যালি ক্যাটস’ নামক এ গল্পটি বলেন কেট ভেবেছিলেন, তার শোনা জীবনের সবচেয়ে বাজে ধারণা এটি। কিন্তু কে জানত, সেই বিদ্রূপাত্মক শুরুই একদিন বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি করবে এক চিরসবুজ ইতিহাস?
১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে এবিসিতে সম্প্রচার শুরু হওয়া আইভান গফ ও বেন রবার্টসের লেখা সেই রোমাঞ্চকর সিরিজ ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’-এ কেট জ্যাকসন অভিনয় করেন সাবরিনা ডানকান চরিত্রে, জ্যাকলিন স্মিথ কেলি গ্যারেট এবং ফারাহ ফসেট জিল মুনরোর ভূমিকায়। পরে ফসেট সিরিজ ছাড়ার পর তার জায়গায় ক্রিস্টিন ‘ক্রিস’ মুনরো চরিত্রে যোগ দেন শেরিল ল্যাড। প্রচারকালীন ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’ মোট চারটি এমি মনোনয়ন পেয়েছিল।
এমির মঞ্চে যোগ দেয়ার আগে চলতি বছরের শুরুতেই হলিউডের একটি প্যালিফেস্ট প্যানেলে সিরিজটির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে একত্র হয়েছিলেন তিন অভিনেত্রী। সেখানে পর্দায় একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতি রোমন্থন করেন তারা। সময়ের স্রোতে চেহারা বদলেছে, চুলে ধরেছে রূপালী ছোঁয়া; কিন্তু পাঁচ দশক পার করেও তাদের সেই রসায়ন এখনো অকৃত্রিম। এ তিন অ্যাঞ্জেল যেন কালজয়ী এক বন্ধুত্বের গল্প উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। ৫০ বছর পরও তাদের উপস্থিতিতে দর্শকের প্রতিক্রিয়া একই রকম উচ্ছ্বসিত। এ পুনর্মিলন তাই নিছক পুরনো তারকাদের ফিরে আসা নয়, বরং ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া একটি টেলিভিশন সিরিজ কীভাবে পাঁচ দশক ধরে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে রেখেছে তারও এক দৃশ্যমান উদাহরণ।
সূত্র: ভ্যারাইটি










