বেড়ে ওঠার সময়টায় কখনো চলচ্চিত্র নির্মাতা হতে চাননি ক্লোয়ি ঝাও। তার ইচ্ছা ছিল ‘মাঙ্গা’ শিল্পী হওয়ার। সম্প্রতি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে একটি মাস্টারক্লাসে এ কথা জানান তিনি। তিনি জানান, তার আঁকার হাত ভালো ছিল না। কিন্তু গল্প বলার ইচ্ছা ও প্রবণতা ছিল তার মধ্যে। তাই গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন চলচ্চিত্রকে। এখন অবধি পাঁচটি ফিচার ফিল্ম নির্মাণ করেছেন তিনি। পেয়েছেন অস্কারসহ নানা সম্মাননা।
বিভিন্ন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন ক্লোয়ি ঝাও। ইন্ডি ঘরানার সিনেমা যেমন আছে, তেমনি নির্মাণ করেছেন সুপারহিরো সিনেমা। গত বছর মুক্তি পাওয়া হ্যামনেট দারুণ প্রশংসিত। অস্কার পেয়েছিলেন ২০২০ সালে ‘নোমাডল্যান্ড’ সিনেমার জন্য। ২০২১ সালে তার পরিচালনায় মুক্তি পায় মার্ভেলের ‘এটার্নালস’। জেমা চ্যান, রিচার্ড ম্যাডেন, কুমেইল নানজিয়ানি, ব্রায়ান টাইরি হেনরি, ব্যারি কিওগান, সালমা হায়েক ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো একাধিক প্রজন্মের তারকারা থাকলেও সিনেমাটি সাফল্য পায়নি। সমালোচকরা সুপারহিরো সিনেমার প্রশংসা সাধারণত করেনই না, এটি বক্স অফিসেও ব্যর্থ হয়। কিন্তু ক্লোয়ি আনন্দ নিয়ে কাজটি করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সিনেমাটি পরিচালনা করতে আমার দারুণ লেগেছিল। আপনাদের মধ্যে যারা অ্যানিমে ভালোবাসেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন, এটা একটি মেয়ের স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার ছিল। কমিক বই হলো পশ্চিমা বিশ্বের মাঙ্গার সমতুল্য। দুটো অবশ্যই খুব আলাদা, কিন্তু আমি পশ্চিমে বাস করি, তাই আমার নাগালে যেটা ছিল, সেটাই পেয়েছি।’

কভিড অতিমারীর পর সুপারহিরো সিনেমার জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে গেলেও ক্লোয়ি ঝাও মনে করেন, সব ধরনের বিনোদনের মূল্য ও প্রয়োজনীয়তা আছে। এক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গি মার্টিন স্করসেসির মতো নয়। স্করসেসি বিখ্যাতভাবেই মার্ভেলের সিনেমাগুলোকে ‘থিম পার্ক’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ঝাও বলেন, ‘আমরা কোনো গল্পকে উচ্চ শিল্পের মর্যাদার বলে মনে করি না বলে সেটিকে একেবারে বাতিল করে দেয়া উচিত নয়। বিনয়ের সঙ্গে বললে, আমার কাছে গল্প বলার উদ্দেশ্য হলো মানুষের জন্য এমন এক ধরনের পরিসর তৈরি করা, যেখানে তারা নিজেদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে ও সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। এ কাজের জন্য আর্কিটাইপ বা আদিরূপ দারুণ একটি মাধ্যম। আমরা পৌরাণিক কাহিনীতেও এগুলো দেখতে পাই। কারণ এগুলো এমন কিছু, যা আমরা সবাই ভাগ করে নিই।’
মাস্টারক্লাসে নোমাডল্যান্ড ও এটার্নালসের বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে ঝাও মনে করেন, এ দুই সিনেমায় এমন কোনো বৈপরীত্য নেই। দুটোই মানুষ ও তার পরিপার্শ্বের সঙ্গে সম্পর্কের গল্প।
ভেনিসের সঙ্গে ক্লোয়ির একটা পুরনো সম্পর্ক আছে। ২০২০ সালে ভেনিসের লিডোতে প্রদর্শিত হয়েছিল ‘নোমাডল্যান্ড’। ওই বছর গোল্ডেন লায়ন জেতে সিনেমাটি। কিন্তু এমন একজন নির্মাতাও নাকি ছোটবেলায় খুব বেশি সিনেমা দেখেননি। বয়সে বিশের কোটায় গিয়ে বারটেন্ডারের কাজ করেছেন। ক্লোয়ি জানান, সে সময়ও তিনি গল্প বলতে চাইতেন। তিনি বলেন, ‘আমি তখনো গল্প বলার জন্য আকুল ছিলাম। বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সিনেমা তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে ছিল। আর কাজ করতে আসার পর বুঝলাম একজন নির্মাতা আসলে একটা ইকোসিস্টেম পরিচালনা করেন।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










