ঈদে মুক্তি পায় একাধিক ঢাকাই সিনেমা। তবে এবারের ঈদে সিনেমা মুক্তির সংখ্যাটা বেশ লম্বা। সব মিলিয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আটটি সিনেমা। সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে শাকিব-বুবলীর ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’, অনন্ত জলিল-বর্ষার ‘কিল হিম’, রোশান-ববির ‘পাপ’, সজল-পূজার ‘জ্বীন’, ইয়াশ-ঐশীর ‘আদম’, আদর আজাদ-বুবলীর ‘ লোকাল’, জয়-অপুর ‘প্রেম-প্রীতির বন্ধন’ ও বাপ্পী চৌধুরী-জাহারা মিতু অভিনীত ‘শত্রু’। ঈদকে সামনে রেখে নির্মাতা ও প্রযোজকরা সিনেমা মুক্তি দেন ছুটির দিনে বেশি সংখ্যক দর্শকের আশায়। কেমন চলছে এবারের ঈদের সিনেমার বাজার? এ নিয়ে জানতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মধুমিতা, স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাসে দর্শকের সংখ্যা কম নয়। রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রাচীন সিনেমা হলের তালিকায় সবার ওপরেই আছে মধুমিতা। ১৯৬৭ সালে মতিঝিলে এটি নির্মাণ করেছিলেন ঢাকার ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন। শুরু থেকেই হলটি ছিল সিনেমাপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। দর্শকমুখরতায় একসময় গমগম করলেও এখন হতাশায় আছে এ প্রাচীন প্রেক্ষাগৃহ। সময়ের সঙ্গে বর্তমানে আর সে অবস্থান নেই মধুমিতার। মাঝে কয়েক মাস সিনেমা হলটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঢাকাই সিনেমার ঈদের বাজার সম্পর্কে জানতে কথা হয় মধুমিতার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘একটা বিরতি নিয়ে আমরা মধুমিতা সিনেমা হল খুলেছি শাকিব-বুবলীর লিডার: আমিই বাংলাদেশ সিনেমাটি দিয়ে। ঈদের দিন থেকেই দর্শকের আগ্রহ ছিল সিনেমাটি দেখার। বলা যায় পরাণ ও হাওয়ার পর এ সিনেমা দিয়েই আবার দর্শক হলে আসছে। হাউজফুল না হলেও প্রত্যেকটা শোতে আমরা আশানুরূপ দর্শক পাচ্ছি। বিশেষ করে সন্ধ্যার শো প্রায় হাউজফুল যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায় সিনেমাটির প্রতি দর্শকের বেশ আগ্রহ রয়েছে। তাই হল নতুন করে চাঙ্গা হয়েছে। প্রথম শোতে ১৩-১৪ হাজার সেল হয়েছে। আগে তো পাঁচ-ছয় হাজারও হতো না। এটা অবশ্যই দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ও আমাদের জন্য আশার আলো।’
মাল্টিপ্লেক্সের অবস্থা কেমন জানতে কথা হয় ব্লকবাস্টার সিনেমাসের বিপণন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মাহবুব রহমানের সঙ্গে। ঢাকাই সিনেমার বাজার নিয়ে মাহবুব বলেন, ‘আমরা এ ঈদে প্রেম-প্রীতির বন্ধন ছাড়া বাকি সাতটা সিনেমা মুক্তি দিয়েছি। এর মধ্য আমরা লিডার: আমিই বাংলাদেশ, কিল হিম ও জ্বীন তিনটি সিনেমায় খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। এ সিনেমাগুলোর বিকাল ও সন্ধ্যার শো প্রায় হাউজফুল যাচ্ছে। এমনকি কয়েকবার হাউজফুলও যাচ্ছে। প্রথমে এ সিনেমাগুলোর আমরা দু-তিনটা শো রাখলেও দর্শকের আগ্রহের কারণে শোর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।’
কোন সিনেমাটিতে দর্শকের সংখ্যা বেশি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দর্শকের বিচারে এগিয়ে আছে জ্বীন। প্রতিদিন সিনেমাটি দেখতে দর্শকের সংখ্যা বাড়ছে। এরপর বলতে হবে কিল হিম ও লিডার সিনেমার কথা। কারণ নিয়মিত দর্শক আসে এ সিনেমা দুটো দেখতে। অন্য সিনেমাগুলো মন্দ নয়। তবে সব বিবেচনায় জ্বীন বেশি চলছে।’
মাল্টিপ্লেক্সে দাপটের সঙ্গে চলছে ঈদের সিনেমাগুলো। ঈদের দিনে দেখা যায় দর্শকে জমজমাট মাল্টিপ্লেক্সগুলো। স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সব মিলিয়ে ছয়টা সিনেমা মুক্তি দিয়েছি। ছয়টা সিনেমার মধ্যে জ্বীন সবচেয়ে বেশি চলছে। প্রচুর দর্শক সিনেমাটা দেখছে। আমরা সিনেমাটির শো বাড়িয়েছি দর্শকের কথা মাথায় রেখে। এমনকি সিনেমাটা হাউজফুল যাচ্ছে। এর পরই বলতে হয় লিডার: আমিই বাংলাদেশ ও কিল হিম সিনেমা দুটির অবস্থান। তিনটি সিনেমাই ভালো চলছে। সব মিলিয়ে বলা যায় সব সিনেমা নিয়েই দর্শকের আগ্রহ আশানুরূপ। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিষয়টি ইতিবাচক। প্রচুর দর্শক সিনেমাগুলো দেখতে আসছে।’
একসময় সিনেমার দর্শকপ্রিয়তায় অন্যতম কেন্দ্র ছিল চট্টগ্রাম। বন্দর শহরে নানা দেশের মানুষের আনাগোনা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ কারণে চট্টগ্রামে ২৮টি সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বর্তমানে সে সংখ্যা কমে এসেছে। ঈদের সিনেমা নিয়ে ভালো যাচ্ছে চট্টগ্রামের প্রেক্ষাগৃহগুলো। এ নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা হয় বন্দরনগরীর কয়েকটি হল কর্তৃপক্ষের। চট্টগ্রামের জনপ্রিয় প্রেক্ষাগৃহ সুগন্ধায় চলছে লিডার: আমিই বাংলাদেশ। প্যালেস সিনেমা হলে এখন জ্বীন সিনেমাটির শো দেখানো হচ্ছে। সিনেমা হল দুটির মালিক ও সিনেমা প্রযোজক মো. আবুল হোসেন জানান, শাকিব খানের লিডার: আমিই বাংলাদেশ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। চট্টগ্রামের অন্য সিনেমা হলের কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, বন্দরনগরীতে দর্শক টানছে লিডার।
বর্তমান সময়ে এসে কেবল প্রেক্ষাগৃহ নয় সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ভূমিকা রাখছে। সামাজিক মাধ্যমে জ্বীন, কিল হিম ও লিডার: আমিই বাংলাদেশ নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। এছাড়া লোকাল সিনেমাটা নিয়েও মিশ্র চর্চা রয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। হলে দর্শক টানতে তারকা ও নির্মাতারাও নিয়মিত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত হল ভিজিটের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে সিনেমার প্রচারণা করছেন। সব মিলিয়ে বলা যায় এবারের ঈদের সিনেমাগুলো নিয়ে দর্শকের আগ্রহ রয়েছে, যার প্রমাণ মিলছে মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনে। বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দর্শকের এ আগ্রহ ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছেন সিনেমাসংশ্লিষ্টরা।
(প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন চট্টগ্রাম ব্যুরোর ডেপুটি চিফ সুজিত সাহা)










