মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে নূরুল আলম আতিক নির্মাণ করেছেন তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর। অন্যদিকে ২০২১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র’সহ মোট ৬টি বিভাগে পুরস্কার পাচ্ছে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অর্জন নিয়ে নূরুল আলম আতিক বলেন, ‘যেকোনো পুরস্কার একধরনের স্বীকৃতি ও প্রেরণা। আমরা বিশেষ করে খুশি যে সিনেমাটা সরকারি অর্থায়নে বাংলাদেশের জনগণের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি বানানো হয়েছে, যেটা আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম অংশ। আমাদের দর্শক সিনেমাটা আপন করে নিয়েছিলেন এবং সেটা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের কমিটিতে যারা ছিলেন তাদেরও নজর এড়ায়নি। খুব স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। সিনেমাটা আমরা সাধারণ মানুষের সহায়তায়ই শেষ করেছি। সেই অর্থে বাংলাদেশের জনগণ এবং ১৯৭১ সালের যে আবেগটা এখনো যারা ধরে রাখেন তাদেরই অংশগ্রহণে লাল মোরগের ঝুঁটি করা সম্ভব হয়েছে। এই অর্জনের জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’
সম্প্রতি তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হয়েছে। এ উৎসবের প্রথম দিন দেশব্যাপী ৬৪ জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে লাল মোরগের ঝুঁটি দেখানো হয়েছিল। উৎসবে প্রদর্শিত ৩৬ চলচ্চিত্রের মধ্যে ৭ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়। এ উৎসবে লাল মোরগের ঝুঁটি সিনেমার জন্য সেরা নির্মাতা হয়েছেন নূরুল আলম আতিক। বিষয়টি নিয়ে আতিক বলেন, ‘আমি আনন্দিত। আমরা অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে লাল মোরগের ঝুঁটি করেছি। নানান প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে সিনেমাটি প্রাণ পেয়েছে, এটার জন্য আমরা অনেক খুশি। আমরা সিনেমাটা অনেক মানুষকে দেখাতে পারিনি বলে যে আক্ষেপ ছিল সেটা তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবের মধ্য দিয়ে কেটে গেছে। কারণ এ উৎসবে দেশব্যাপী সব শিল্পকলা একাডেমিতে সিনেমাটা দেখানো হয়েছে। আমরা মনে করছি এর মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তি ঘটছে। কারণ সিনেমাটা যখন মুক্তি পায় আমরা অল্প মানুষকে দেখাতে পেরেছিলাম। কিন্তু এ উৎসবের মধ্য দিয়ে সারা দেশের মানুষ সিনেমাটা দেখার সুযোগ পেয়েছে।’
বর্তমান সময়ে কি নতুন কোনো সিনেমা নির্মাণের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন—এ প্রশ্ন জানতে চাইলেন আতিক বলেন, ‘এখন একটি সিনেমার প্রস্তুতি পর্বের কাজ চলছে। প্রাইমারি চিত্রনাট্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
সিনেমাটির গল্প কি মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই, এ কথা বলতেই আতিক বলেন, ‘না এটা এ মুহূর্তে বলা যাবে না। শুধু বলতে পারি এ বছর আমাদের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জম্মশতবার্ষিকী। তার চিত্রকর্ম, জীবন এগুলো বারবার দেখার প্রয়োজন আছে। তার জীবনদর্শন সম্পর্কে জানার গুরুত্ব অনুভব করি। এসএম সুলতানকে নিয়েই আমাদের একটা সিনেমা আসতে যাচ্ছে।’
শেখ মোহাম্মদ সুলতান যিনি এসএম সুলতান নামেই পরিচিত। তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। তার আঁকা ছবিগুলো বিশ্বদরবারে গ্রামীণ জীবন এবং জীবনের অর্থ উপস্থাপন করে ভিন্নভাবে।
অন্যদিকে নূরুল আলম আতিক পরিচালিত এবং জয়া আহসান অভিনীত ‘পেয়ারার সুবাস’ সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে কয়েক বছর আগেই। তবে এখনো মুক্তি পায়নি সিনেমাটি। পেয়ারার সুবাস কবে প্রেক্ষাগৃহে আসছে এ নিয়ে জানতে চাইলে এ নির্মাতা বলেন, ‘আমরা আশা করছি পেয়ারার সুবাস এই বছরেই মুক্তি পাবে। আমাদের কাজ শেষ হয়েছে আগেই, এখন সেন্সর প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে সিনেমাটা। আন্দাজ করি চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটা দেখাতে পারব।’ পেয়ারার সুবাসের শুটিং হয়েছে সিরাজগঞ্জ ও পাবনায়। এতে জয়া ছাড়াও আরো অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, আহমেদ রুবেলসহ অনেকেই।










