এখন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কয়েক মিনিটের গল্প। স্মার্টফোন-নির্ভর নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে স্বল্প দৈর্ঘ্য, দ্রুতগতি আর সহজে উপভোগযোগ্য কনটেন্টের চাহিদা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এ পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘মাইক্রোড্রামা’। এটি সম্প্রতি আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ওটিটি প্লাটফর্ম ‘ভিউ’র তথ্য বলছে, দর্শকের কনটেন্ট দেখার অভ্যাস দ্রুত বদলাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাপোস (এশিয়া-প্যাসিফিক ভিডিও অ্যাডভান্সমেন্ট) ২০২৬’ সম্মেলনে ভিউয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনিস লি জানান, কয়েক মাস আগে প্লাটফর্মটিতে মাইক্রোড্রামা চালু করা হলেও এরই মধ্যে তাদের দীর্ঘমেয়াদি বা লং ফর্ম কনটেন্ট দর্শকের প্রায় ২০ শতাংশ এ নতুন ফরম্যাটে ঝুঁকেছেন।
জেনিস লি এ প্রবণতাকে ‘স্ন্যাকিং বিহেভিয়ার’ বা ঝটপট বিনোদনের সংস্কৃতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, মাইক্রোড্রামার উত্থান মানেই দীর্ঘ সিরিজ বা চলচ্চিত্রের পতন নয়। বরং দর্শক সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাট বেছে নিচ্ছেন। যাত্রাপথে, বিরতির ফাঁকে কিংবা অবসরের ক্ষণিক সময়ে কয়েক মিনিটের কনটেন্ট দেখার প্রবণতাই মাইক্রোড্রামাকে জনপ্রিয় করে তুলছে।

মাইক্রোড্রামার সবচেয়ে বড় বাজার বর্তমানে চীন। ভারতের বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা শেখর কাপুর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষে চীনের মাইক্রোড্রামা বাজারের মূল্য প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। এ পরিমাণ দেশটির বার্ষিক বক্স অফিস আয়ের প্রায় দ্বিগুণ।
ভারতেও দ্রুত বাড়ছে এ বাজার। শেখর কাপুরের মতে, ২০২৬ সালে ভারতীয় মাইক্রোড্রামা বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। ভারতের সিনেমার বক্স অফিস আয়ও এ পরিমাণ। এ তথ্যই প্রমাণ করে যে মোবাইল-নির্ভর দর্শকসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিনোদন অর্থনীতি গড়ে উঠছে।
ভারতে রিলশর্ট, পকেট এফএম, গুডশর্ট, ফ্লিক টিভিসহ একাধিক প্লাটফর্ম এরই মধ্যে মাইক্রোড্রামা নির্মাণ ও প্রচারে বিনিয়োগ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক এ ফরম্যাটের বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে।
মাইক্রোড্রামা শুধু দর্শকের অভ্যাসই বদলাচ্ছে না, বদলে দিচ্ছে বিনোদন ব্যবসার কৌশলও। ভিউ এরই মধ্যে বড় বড় ব্র্যান্ডকে শর্ট ফর্ম প্রজেক্টে যুক্ত করতে শুরু করেছে। স্যামসাংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত ট্রাভেল অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ ‘অ্যাব্রাকাড্যাব্রা’ তারই একটি উদাহরণ।
বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক কম বাজেট, দ্রুত নির্মাণ ও বিপুলসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতার কারণে প্রযুক্তি কোম্পানি ও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলো মাইক্রোড্রামায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। বাজার দখলের এ প্রতিযোগিতায় এশিয়া এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগার।

এদিকে ভিউ দক্ষিণ কোরিয়ার কোকার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে, যার আওতায় নতুন রিয়ালিটি শো ও স্ক্রিপ্টেড ড্রামা তৈরি হচ্ছে। ফুজি টেলিভিশন ও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান সিমস্টোরির সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণ হচ্ছে প্যান-আঞ্চলিক থ্রিলার ‘কিডন্যাপ গেম’। পাশাপাশি মার্কিন বাজারকে লক্ষ্য করে এশীয় শিল্পীদের নিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ইংরেজি ভাষার সিরিজ ‘দ্য সিজন’।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মাইক্রোড্রামা ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। বাংলাদেশে অবশ্য মাইক্রোড্রামা তৈরি হয়নি, তবে বিদেশী মাইক্রোড্রামার দর্শক আছে। ইউটিউব ও ফেসবুকে তারা মাইক্রোড্রামা দেখে থাকে। দর্শক চাহিদাকে মাথায় রেখে দীপ্ত প্লে নিয়মিত প্রচার করে মাইক্রোড্রামা। আগামীকাল থেকে ওটিটি প্লাটফর্মটিতে স্ট্রিম হবে বাংলায় ডাবিং করা নতুন মাইক্রোড্রামা ‘সৌভাগ্যের ছোট্ট তারা’।
এটি একটি হৃদয়ছোঁয়া পারিবারিক ও ফ্যান্টাসি গল্প, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ছোট্ট মেয়ে সু বাও। জন্মের পর থেকেই নানা ষড়যন্ত্র ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়। ফলে তার দত্তক পরিবার ধীরে ধীরে তাকে অবহেলা ও কষ্ট দিতে শুরু করে। সু বাও ও তার পরিবারকে নিয়েই ছোট্ট এ গল্প।
সূত্র: ভ্যারাইটি ও দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










