এটি তার আগের সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’র পরের অধ্যায়, যেখানে বিয়ে, সম্পর্ক আর বিচ্ছেদের জটিল অনুভূতিগুলো নিয়ে দর্শক মহলে প্রশংসিত হয়েছিলেন জয়া। প্রথম সিনেমায় শুভ্রা ও মেঘনার গল্প যেখানে থেমেছিল, নতুন সিনেমা শুরু হয়েছে ঠিক সেখান থেকেই।
সিনেমাটি মুক্তির পর থেকে ব্যাপক দর্শক সাড়া পাচ্ছেন জয়া। এ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, দর্শকের কাছ থেকে অসাধারণ সাড়া পাচ্ছি। মেঘনা চরিত্রের প্রতি দর্শকের এ ভালোবাসার শুরু হয়েছিল ‘অর্ধাঙ্গিনী’ দিয়ে। সিনেমাটি শুধু সাধারণ দর্শক নয়; সমালোচকদের কাছেও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। আজও অর্ধাঙ্গিনী সে গল্পেরই পরবর্তী অধ্যায়। প্রথম সিনেমায় শুভ্রা ও মেঘনার যে জায়গায় গল্প শেষ হয়েছিল, নতুন সিনেমাটি ঠিক সেখান থেকেই শুরু। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দারুণ দর্শক সাড়া পাচ্ছে। প্রায় প্রতিটি জায়গায় এখনো হাউজফুল শো চলছে।’
একই চরিত্রে ফিরে আসাকে চাপ নয়, বরং আনন্দ হিসেবেই দেখছেন এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটা চাপের চেয়ে আনন্দের। সাধারণত একটি চরিত্র শেষ হয়ে গেলে তাকে বিদায় জানাতে হয়। কিন্তু কোনো চরিত্রে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া একজন অভিনেত্রীর জন্য খুবই আনন্দের।’
সিনেমার নামে থাকা ‘অর্ধাঙ্গিনী’ শব্দটি নিয়ে অবশ্য নিজের ভিন্নমতও জানিয়েছেন জয়া। তার ভাষায়, ‘আমি আসলে নারী-পুরুষের এমন বিভাজনের ধারণায় খুব একটা বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি মানুষে মানুষে সম্পর্কের ওপর, আত্মার সঙ্গে আত্মার সংযোগের ওপর। একজন মানুষের পরিচয় শুধু কোনো সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তবে সিনেমার গল্প ও প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনেই এখানে অর্ধাঙ্গিনী শব্দটি এসেছে।’
সিনেমায় মেঘনার মাতৃত্বের যাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গাজুড়ে আছে। এ প্রসঙ্গে জয়ার ভাষ্য, ‘আমি মনে করি, মাতৃত্ব একজন নারীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও বটে। এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক নারীর সাহসী, ধৈর্যশীল ও দূরদর্শী হওয়া প্রয়োজন। সমাজ বা অন্য কারো প্রত্যাশার চেয়ে নিজের বাস্তবতা, অনুভূতি ও ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’
পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জয়ার কাছে দারুণ। জয়ার মতে, ‘কৌশিকদার সঙ্গে কাজ করা সবসময় খুব সমৃদ্ধ একটি অভিজ্ঞতা। তিনি চরিত্র নিয়ে অনেক গভীরভাবে ভাবেন। অভিনেতাদেরও সে ভাবনার ভেতরে ঢুকে কাজ করার সুযোগ করে দেন।’










