যশোরে শুরু হয়েছে ১২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব। ১২ জানুয়ারি শুরু হওয়া নাট্যোৎসব চলবে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। এটির আয়োজক থিয়েটার ক্যানভাস।
শনিবার যশোর আন্তর্জাতিক নাট্যাৎসবের তৃতীয় দিনে মঞ্চায়ন হয় প্রার্থিনী। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৌঠান ‘কাদম্বরী’ চরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ নাটক রচনা করেছেন সাধনা আহমেদ ও নির্দেশনা দিয়েছেন আইরিন পারভীন লোপা। এটি সাধনা আর্টস অ্যান্ড থিয়েটার প্রযোজনা। মঞ্চে দুই চরিত্রের অনবদ্য অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখেছে দর্শকশ্রোতা।
প্রার্থিনীর মধ্য দিয়ে নাট্যকার অধিবাস্তবিক চিন্তার নিরীক্ষা করতে চেয়েছেন। তাই তো নারীর চাওয়া-পাওয়া, কামনা-বাসনার সঙ্গে জীবন-মৃত্যুকেও মূল্যায়ন করতে চেয়েছেন। মঞ্চে ভারী কোনো সেট নেই। একটি দোলনা, একটি ঝুলন্ত ফুলের শাখা ও সামনে দুটো উঁচু পাটাতন। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দুটো নারী চরিত্রই মঞ্চে প্রায় সারাক্ষণ উপস্থিত। অনবদ্য অভিনয় পিনপতন নীরবতায় দর্শক উপভোগ করেছেন। কাব্যিক ভারী ভারী সংলাপে যেন মূর্ত হয়ে উঠছিল নারী মানসিকতার রূপ। প্রার্থিনী গ্রিক জাদুর দেবীর আসলে লাল রঙের পোশাকে আর বেগুনি রঙের শাড়িতে কাদম্বরীর অবসাদগ্রস্তের বিধ্বস্ত চেহারা।
যশোর আন্তর্জাতিক নাট্যাৎসবের আহ্বায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, ‘সংস্কৃতি জাগরুক প্রাণ, থিয়েটার শিখা অনির্বাণ’ স্লোগানে থিয়েটার ক্যানভাসের আয়োজনে যশোর আন্তর্জাতিক নাট্যাৎসবের চতুর্থ দিন রোববার প্রাঙ্গণেমোর পরিবেশনায় মঞ্চায়িত হয় হাছন জানের রাজা। এরপর ১৬ জানুয়ারি ‘পালাকারের উজানে মৃত্যু’, ১৭ জানুয়ারি থিয়েটার ক্যানভাসের ‘লালসালু’, ১৮ জানুয়ারি নাট্যম রেপার্টরির ‘ কোথায় জলে মরাল চলে’, ১৯ জানুয়ারি নাট্যকেন্দ্রের ‘পুণ্যাহ’, ২০ জানুয়ারি স্টেইজ ওয়ানের ‘শোধ’, ২১ জানুয়ারি প্রাচ্যনাটের ‘সার্কাস সার্কাস’, ২২ জানুয়ারি শান্তিপুর সাংস্কৃতিক ভারতের ‘অংশুপট উপাখ্যান’ এবং ২৩ জানুয়ারি মণিপুরী থিয়েটারের ‘কহে বীরাঙ্গনা’ মঞ্চায়িত হবে।










