পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতেই বুঝতে পারে তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত। তখন তারা বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার এক নীলনকশা প্রণয়ন করে। রাজাকার, আলবদর, আল শামসের সহযোগিতায় সুপরিকল্পিতভাবে এ দেশের বরেণ্য মানুষকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর পালিত হয়ে আসছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারের হত্যার ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ডায়েরি অব জেনোসাইড’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সৌরভ কুণ্ডু। এটি রচনা করেছেন হাসানাত বিন মাতিন। মূল ভাবনায় আমিনুল ইসলাম ইমন। এতে অভিনয় করেছেন রওনক হাসান, পূর্ণিমা বৃষ্টি, জেআই মোহসান, বিপুল, টিপু, আনিকা তাবাসসুম ও ইমতিয়াজ। 

ডায়েরি অব জেনোসাইডে শহীদুল্লা কায়সারের ভূমিকায় দেখা যাবে রওনক হাসানকে। রওনক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ইতিহাসে দলিল হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানাতে এ ধরনের কাজ আরো বেশি হওয়া দরকার। শহীদুল্লা কায়সারের চরিত্রে অভিনয় করাটা এত সহজ ছিল না, এটা বেশ কঠিন। গল্পে যে সময় যে মুহূর্ত দেখানো হয়েছে, আমি চেষ্টা করেছি সে মুহূর্তের অনুভূতিটা তুলে ধরার জন্য। হয়তো এটা দেখেই শহীদুল্লা কায়সারকে পুরোপুরি চেনা যাবে না। কিন্তু সে মুহূর্তটা পাওয়া যাবে, যখন তাকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার ভালো লেগেছে সৌরভ কুণ্ডুর পুরো টিম কোনো রকমের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছাড়াই কাজটি সুন্দরভাবে করেছে। মূলত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্যই তারা ডায়েরি অব জেনোসাইড নির্মাণ করেছে, যা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। এমন একটা নির্মাণে  যুক্ত হতে পেরে আমারও ভালো লেগেছে।’ 
পরিচালক সৌরভ কুণ্ডু বলেন, ‘আমরা এর শুটিং করেছি মানিকগঞ্জে। বুদ্ধিজীবীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ডায়েরি অব জেনোসাইড নির্মাণ করেছি। ইতিহাস থেকে আমরা জানি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন রাও ফরমান আলী। তার নির্দেশেই হত্যাযজ্ঞ চালায় আলবদর বাহিনীর দুই প্রধান চৌধুরী মঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান। তারা প্রথমে একটি ডায়েরিতে তালিকা করেছিল, যেখানে শতাধিক বুদ্ধিজীবীর নাম ছিল। সে তালিকা অনুযায়ী সব বুদ্ধিজীবীকে তাদের বাসা থেকে ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ডায়েরির একটা পাতা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে রাখা আছে। আমাদের নিজেদের দায়িত্ববোধ, দেশের প্রতি ভালোবাসার জায়গা থেকেই এটি নির্মাণ করেছি। ‌সত্য একটা কাহিনীর সঙ্গে কিছুটা নাটকীয়তা রেখে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। দুই মাস সময় নিয়ে আমরা চিত্রনাট্য লিখেছি। লেখার আগে লম্বা একটা সময় তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করেছি। সব মিলিয়ে ডায়েরি অব জেনোসাইড নির্মাণের অভিজ্ঞতাটি অসাধারণ।’
গতকাল রাতে আপ স্টুডিও প্রডাকশন হাউজ অ্যান্ড পাবলিকেশনের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে ডায়েরি অব জেনোসাইড।