কয়েকদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়েব ফিল্ম কুহেলিকা নিয়ে দর্শকের অপেক্ষা ছিল। আজ দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্লাটফর্ম বিঞ্জে আসছে এটি। সিরিজটি নির্মাণ করেছেন সামিউর রহমান। এতে অভিনয় করেছেন এ সময়ের কয়েকজন জনপ্রিয় তারকা। এদের মধ্যে রয়েছেন নাজিয়া হক অর্ষা, সাফা কবির, শাফায়েত মনসুর রানা, ইয়াশ রোহান, শরীফ সিরাজ, আবু হুরাইরা তানভীর, রাকিব হোসাইন, এলিনা শাম্মী প্রমুখ। 

নির্মাতা হিসেবে বিজ্ঞাপনজগতে সুপ্রতিষ্ঠিত সামিউর রহমান। তবে কুহেলিকা তার প্রথম ফিকশন। কেমন ছিল প্রথম ওয়েবফিল্ম পরিচালনার অভিজ্ঞতা, এ নিয়ে জানতে চাইলে সামিউর বলেন, ‘‌আমি অনেক ভাগ্যবান, কারণ আমি যাদের পেয়েছি তারা সবই অনেক দক্ষ। ডিওপি থেকে মেকআপ আর্টিস্ট ক্যামেরার পেছনে যারা ছিলেন, সবাই অনেক সিনিয়র ও ম্যাচিউর। কুহেলিকা ডিটেলিং দেখলেই দর্শক বুঝতে পারবেন। আর যারা আর্টিস্ট ছিলেন, তারা আরো অসাধারণ। গল্পটা এমন যে আমরা প্রায় এক সপ্তাহ সারা রাত শুটিং করেছি, সবাই গল্পটার সঙ্গে মিশে গিয়ে কাজ করেছি, আমার কখনো মনে হয়নি আমি প্রথম ফিকশন শুটিং করছি।’

কিছুদিন আগেই কুহেলিকার ট্রেলার প্রকাশ পায়। এর পর থেকেই ওয়েব ফিল্মটির গল্প নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয় দর্শকের মাঝে। এর গল্প নিয়ে নির্মাতা বলেন, ‘কুহেলিকার গল্পটা মিস্ট্রি থ্রিলার ঘরানার। মূলত দুই সময়ের দুজন নারীর গল্প এটি। এর নন্দিতা চরিত্রে রয়েছেন অর্ষা আপু ও অন্বেষা চরিত্রে সাফা। তারা দুজনই ভিন্ন মানসিকতার, কিন্তু একপর্যায়ে তাদের দুজনের দেখা হয়। তাদের ব্যক্তিগত জীবনের সম্পর্কগুলো একটু টক্সিক হয়ে যায়, এরপর তাদের জীবনে কী হয়, সে জার্নিটা নিয়েই কুহেলিকা।’

বর্তমান সময়ে ওটিটি মাধ্যমে নিয়মিত নাজিয়া হক অর্ষা। আসন্ন ওয়েব সিরিজটির প্রধান নারী চরিত্র তিনি। নিজের চরিত্র নিয়ে অর্ষা বলেন, ‘‌নন্দিনী এমন একটা চরিত্র, যে সমাজের জাতাকলে নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারে না এবং দাম্পত্যজীবনে যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলো সে মেনে নিয়ে নিজের ভালো লাগা বাদ দিয়ে সমাজের এ সিস্টেমেই মোল্ড হতে থাকে। কিন্তু একটা সময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়। এখান থেকেই আসলে গল্পটার শুরু। সবাই আসলে সুখের পেছনে ছোটে, কিন্তু সুখ আসলে কুহেলিকা। কখনো ধরা দেয়, কখনো দেয় না। এটি আসলে আপেক্ষিক বিষয়, এর ভেতর ধাঁধাঁ আছে। আমি মনে করি, মানুষ বুঝবে কুহেলিকায় কী আছে।’ 

নির্মাতা শাফায়েত মনসুর রানা রয়েছেন কুহেলিকায়। লম্বা একটা সময় পর দেখা যাবে তাকে। নিজের পরিচালনায় মাঝে মাঝে অভিনয় করলেও খুব কমই অন্য নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। কুহেলিকায় অর্ষার বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। কুহেলিকায় নিজের চরিত্রের কথা বলতে গিয়ে শাফায়েত মনসুর রানা বলেন, ‘‌আমি নেগেটিভ চরিত্র করেছি এতে। যেখানে আমাকে একজন প্রসেসিভ হাজবেন্ড হিসেবে দেখা যাবে। যিনি নিজের বিষয় নিয়েই অনেক বেশি সচেতন। কিন্তু তার আশেপাশে যারা আছে, তাদের কোনো বিষয় নিয়েই তার কোনো ভাবনা নেই।’

নির্মাণ ও অভিনয় এ দুই নিয়েই দর্শকমহলে সমাদৃত রানা। কিন্তু লম্বা একটা সময় ক্যামেরা থেকে দূরে ছিলেন এ নির্মাতা। তার এ বিরতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‌আসলে যখন ইচ্ছা হয়, তখনই কাজ করি। এছাড়া নিজেকে সময় দিয়েছি। পাশাপাশি আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়াই, তাই ব্যস্ত থাকতে হয়। এর মাঝে কাজ করা একটু চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। সব যখন ব্যাটে বলে মিলে যায়, তখন কিছু করা হয়। সব মিলিয়েই একটা বিরতি ছিল।’ তাহলে এখন থেকে নিয়মিত দেখা যাবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে রানা বলেন, ‘‌পর্দায় নিয়মিত দেখা যাবে কিনা জানি না, তবে পরিচালনায় পাওয়া যাবে আশা করছি।’ 

ওয়েব ফিল্ম ইউটিউমারের ‘‌জ্যাকসন ভাই’ চরিত্রটি করে দর্শক মহলে প্রশংসা পেয়েছেন শরীফ সিরাজ। কুহেলিকায় অন্যভাবে দেখা যাবে তাকে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌আমি খুব ছোট একটা চরিত্র করেছি এতে। এটা আমার জন্য খুব ভালো একটা অভিজ্ঞতা। দুজন নারীর লড়াইয়ের গল্প এটি, আর এ সময় তাদের জীবনের সঙ্গে যে চরিত্রগুলো জড়িয়ে যায়, তার মধ্যে আমি একজন। দুটো প্যারালাল কাহিনী একটা বিন্দুতে গিয়ে মিলেছে, এটা নিয়েই কুহেলিকা। এখানে সবাই মূলত পাপী আর ফলও সবাইকেই ভোগ করতে হয়। সামিউর রহমান কুহেলিকা খুব আকর্ষণীয় করে নির্মাণ করেছেন।’

২০২১ সালে শুটিং হয়েছিল ওয়েব ফিল্ম কুহেলিকার। এরপর কেটে গেছে দুই বছর। এরই মধ্যে এটি নিয়ে দর্শকের মাঝে জমেছে নানা প্রশ্ন। বাংলা অভিধানে কুহেলিকা অর্থ কুয়াশা। ওয়েব ফিল্মটি ঘিরে যেসব প্রশ্ন জমা হয়েছিল, সেসবের জবাব মিলে কুয়াশা কেটে যাবে এর চরিত্রগুলোর।