মৈমনসিংহ গীতিকার ‘কাজল রেখা’ অবলম্বনে খ্যাতিমান পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম নির্মাণ করছেন সিনেমা। এখন সিনেমাটির শুটিং চলছে। এটি মূলত একটি রূপকথার গল্প, যেটি ৪০০ বছর আগের কাহিনী।

কাজল রেখা সিনেমার শুটিংয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। তিনি বলেন, ‘নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আমরা শুটিং করছি। এখন ৭০ শতাংশ শুটিং হয়ে গিয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশ চলতি মাসের মাঝামাঝিতেই শেষ হবে বলে আশা করি। ৪০০ বছর আগের গল্প নিয়ে কাজল রেখা নির্মাণ করা হচ্ছে। এটা আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট। প্রায় এক যুগ আগে থেকে আমি কাজল রেখা নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে চেয়েছি। এখন সিনেমাটির শুটিং চলছে, এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো।’

সিনেমাটি নিয়ে গিয়াস উদ্দিন সেলিম আরো বলেন, ‘নেত্রকোনার দুর্গাপুরে যেখানে সিনেমাটির শুটিং করা হচ্ছে, সেটা গারো ও হাজংদের অঞ্চল। ৭০-৮০ জন গারো ও হাজং মিলে কাজল রেখার সেট তৈরি করা করেছেন। এটা আসলে মহাযজ্ঞ। কাজল রেখা আমার করা এ-যাবত্কালের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট। ছয় মাস ধরে আমরা কাজল রেখা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কাজল রেখার সেটে আমরা ওই সময়ের ঘটনা তুলে ধরেছি। আমরা যে রকম ঘরবাড়িতে থাকতাম সেটাই আমরা দেখিয়েছি। ইংরেজ, মোগল ও তুর্কিরা না এলে আমরা যেভাবে আমাদের আর্কিটেকচার ডেভেলপ করতাম সেটা মাথায় রেখেই সেট তৈরি করেছি।’

সিনেমা নির্মাণে কাজল রেখা কেন বেছে নিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘ষোড়শ শতাব্দীতে যত গীতিকবিতা লেখা হয়েছে তার সবগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্রে বীর না হলে দেবতা। একমাত্র মৈমনসিংহ গীতিকার সমস্ত কেন্দ্রীয় চরিত্রে নারী। আমাদের এ অঞ্চলে মাতৃপ্রধান সমাজ ছিল, এটা তারই আভাস। মোগল আমলে আমরা একটি সমৃদ্ধশালী জাতি ছিলাম। ইংরেজরা আসার পর আমাদের অবস্থানের পরিবর্তন আসে। আমরা যে বলি সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশ, এটা মূলত মোগল আমলে ঠিক ছিল। ইংরেজরা আসার পর রাজধানী নিয়ে গিয়েছে কলকাতায়; তারা এদিকে নজর দেয়নি। ঐতিহ্যগতভাবে যে আমরা একটি সমৃদ্ধশালী জাতি এটা দেখানোর জন্যই কাজল রেখা নির্মাণ করা।’

কাজল রেখা সিনেমায় কাজ করছেন একঝাঁক তারকা। কাজল রেখার নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন মন্দিরা চক্রবর্তী। প্রধান দুই চরিত্রে রয়েছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শরিফুল রাজ।