রজনীকান্তের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা থেকেই কাজটি করছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে সেতুপতি বলেন, ‘আমি এখন ক্যামিও করা বন্ধ করে দিয়েছি। সম্প্রতি শুধু জেলার টুতে একটি ক্যামিও করেছি। সেটাও শুধু রজনী স্যারকে কাছ থেকে দেখার জন্য।’ তিনি জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে সৃজনশীলতার চেয়ে বাণিজ্যিক কারণই বেশি কাজ করেছে। সেতুপতির ভাষায়, অন্য অভিনেতার সিনেমায় তার ক্যামিও শেষ পর্যন্ত তার নিজের সিনেমার ব্যবসায় প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, ‘আমি যদি তার সিনেমায় ক্যামিও করি, মানুষ হয়তো আমাকে তেমন গুরুত্বই দেবে না। কিন্তু আমি যখন অন্য সিনেমায় ক্যামিও করি, তখন সেটা আমার নিজের সিনেমার ওপর প্রভাব ফেলে।’
সেতুপতি আরো জানান, জেলার টুতে ক্যামিও করার প্রধান কারণ রজনীকান্তের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। পাশাপাশি প্রায় পাঁচ দশক ধরে তারকাখ্যাতি ধরে রাখা একজন অভিনেতার কাছ থেকে শেখার সুযোগও তিনি হাতছাড়া করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘আমি সিনেমাটিতে ক্যামিও করেছি, কারণ আমি রজনীকান্তকে খুব ভালোবাসি। তার সঙ্গে থাকলে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়। এত দশক ধরে সুপারস্টার হিসেবে টিকে থাকা সহজ নয়। তাদের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে।’ তবে ক্যামিও না করার সিদ্ধান্তকে একেবারে চূড়ান্ত বলেও মনে করেন না তিনি। সেতুপতির ভাষায়, শেষ পর্যন্ত সবকিছুই চিত্রনাট্যের ওপর নির্ভর করে। যদি মনে হয় কোনো চরিত্র আমার জন্য উপযুক্ত, তাহলে আমি অবশ্যই করব। অর্থাৎ, তার এ নীতিতে পরিস্থিতি ভেদে ব্যতিক্রমের সুযোগ থাকছে। সেতুপতি খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, যা তার ক্যামিও নীতির সঙ্গে অনেকটাই সম্পর্কিত। তিনি জানান, বর্তমানে তাকে যে অধিকাংশ খলনায়কের চরিত্রের প্রস্তাব দেয়া হয়, সেগুলো মূলত নায়ককে আরো বড় করে তুলে ধরার জন্য লেখা হয়, গল্পের প্রয়োজনে নয়।
সেতুপতি বলেন, ‘নির্মাতারা আমাকে প্রচলিত, গতানুগতিক ভিলেনের চরিত্র দিচ্ছেন, যেগুলো আমি করতে চাই না। এখন আমি শুধু সেই ভিলেনের চরিত্রই করি, যেগুলো চিত্রনাট্যের জন্য জরুরি এবং আমাকে আগ্রহী করে।’
নেলসন দিলীপ কুমার পরিচালিত জেলার টু মুক্তি পাবে আগামী ১৫ অক্টোবর। সিনেমায় মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে আবারো অভিনয় করছেন রজনীকান্ত। তার সঙ্গে আরো রয়েছেন এসজে সূর্য, রম্যা কৃষ্ণন, বিদ্যা বালান, মিঠুন চক্রবর্তী ও যোগী বাবু।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










