ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপটে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন কালজয়ী উপন্যাস ‘পথের দাবী’। সেই উপন্যাসটি আবার ফিরছে বড় পর্দায়। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন চলচ্চিত্র ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ঘিরে প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

গতকাল প্রকাশিত প্রি-টিজারে প্রথমবারের মতো দেখা গেল ছবির প্রধান চরিত্রগুলোর লুক। সেখানে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায় হাজির হয়েছেন টোটা রায়চৌধুরী। পাক ধরা চুল, গম্ভীর মুখাবয়ব আর লেখায় নিমগ্ন উপস্থিতিতে তিনি যেন জীবন্ত করে তুলেছেন বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি লেখককে।

অন্যদিকে, উপন্যাসের কিংবদন্তি চরিত্র ‘সব্যসাচী’র ভূমিকায় দেখা গেছে আবির চট্টোপাধ্যায়কে। হাতে বন্দুক, চোখে দৃঢ়তা—প্রথম ঝলকেই বিপ্লবী চরিত্রটির আবহ ফুটে উঠেছে স্পষ্টভাবে।

শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৬ সালে। উপন্যাসটি প্রকাশের পরপরই ব্রিটিশ শাসকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। স্বাধীনতাকামী তরুণদের কাছে সব্যসাচী হয়ে ওঠেন সংগ্রাম ও বিদ্রোহের প্রতীক। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, তৎকালীন এক প্রভাবশালী বিপ্লবীর আদলে চরিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন শরৎচন্দ্র—যিনি ব্রিটিশ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিপ্লবী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

সেই ইতিহাস, সেই দ্রোহের সময় এবং ‘পথের দাবী’কে ঘিরে ব্রিটিশ শাসকদের অস্বস্তির কাহিনিই উঠে আসবে ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবিতে। সৃজিত মুখোপাধ্যায় এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন দুর্গাপূজাতেই মুক্তি পাবে ছবিটি।

ছবির কাস্টও বেশ সমৃদ্ধ। টোটা রায়চৌধুরী ও আবির চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি রয়েছেন মিমি চক্রবর্তীসহ আরো অনেকে। শুধু শরৎচন্দ্রই নন, গল্পে উঠে আসবে তৎকালীন ভারতের একাধিক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশসহ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রদের ঘিরেও এগোবে ছবির কাহিনি।

প্রথম ঝলকেই সৃজিত ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইতিহাস, সাহিত্য এবং বিপ্লবের এক অনন্য মেলবন্ধন নিয়ে দর্শকদের সামনে আসছে ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’।