রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৃক্ষবন্দনা’ কবিতাকে অবলম্বন করে রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে গতকাল মঞ্চস্থ হয়েছে নৃত্যনাট্য ‘ধরা তরু কাব্য: নেচারস টেল’। ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (আইজিসিসি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এ পরিবেশনা। নৃত্য, সংগীত ও অভিনয়ের মাধ্যমে এতে প্রকৃতি, মানুষ ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়।
কবিগুরুর প্রকৃতিপ্রেম ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সামঞ্জস্যের দর্শনকে সমকালীন নৃত্যের ভাষায় মঞ্চে উপস্থাপন করে তুরঙ্গমী রেপার্টরি ড্যান্স থিয়েটার। পরিবেশনাটিতে বাংলার ছয় ঋতুর বৈচিত্র্যও তুলে ধরা হয়। বসন্তের পুষ্পিত সৌন্দর্য, গ্রীষ্মের উত্তাপ, বর্ষার অবিরাম ধারা, শরতের প্রাচুর্য আর শীতের নীরবতার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির নানা রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়।
রবীন্দ্রনাথের কবিতার ভাবনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ পরিবেশনায় প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি তার স্থিতিস্থাপকতা ও চিরন্তন শক্তিকেও তুলে ধরা হয়। মানুষের জীবন ও প্রাকৃতিক জগতের গভীর বন্ধন বিভিন্ন নৃত্যভঙ্গি, সংগীত ও অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চে রূপ পায়। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে শুধু নান্দনিকতার জায়গা থেকে নয়, দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেও দেখার সুযোগ তৈরি করে এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অভিন্ন ঐতিহ্য, সাহিত্য ও প্রকৃতিপ্রেমের গভীরে প্রোথিত। এ পরিবেশনা আমাদের প্রকৃতিকে সম্মান ও সংরক্ষণ করার অভিন্ন দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সরকার বিভিন্নভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে কাজ করছে।’
‘ধরা তরু কাব্য: নেচারস টেল’ মূলত রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতিবিষয়ক চিরন্তন ভাবনাকে নৃত্য ও নাট্যের সমন্বিত ভাষায় নতুন করে পাঠের আয়োজন। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর বন্ধন এবং প্রকৃতির প্রতি সম্মান ও সংরক্ষণের দায়িত্বের বিষয়টি এ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সামনে আসে।










