একাধিক কমেডি প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরশাদ ওয়ার্সি। গত ২৬ জুন মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’, ৩ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে রাজকুমার হিরানির নতুন সিরিজ ‘প্রিতম অ্যান্ড পেদ্রো’ এবং ১০ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘ধামাল ৪’। টানা কমেডি নিয়ে আলোচনায় থাকা এ অভিনেতা বলেছেন, একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো প্রতিটি চরিত্রকে আলাদাভাবে বাঁচিয়ে তোলা। তাই সার্কিট চরিত্রকে ‘গোলমাল’-এর মতো চলচ্চিত্রে নিয়ে আসা সম্ভব নয়।
ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরশাদ বলেন, ‘ওয়েলকাম’ ও ‘ধামাল’ একই ধরনের কমেডির ঘরানায় হলেও ‘গোলমাল’ ভিন্ন স্বাদের। তার ভাষায়, ‘ওয়েলকাম ও ধামালের মধ্যে অনেক মিল আছে। কিন্তু গোলমালের চরিত্রগুলো খুব নির্দিষ্টভাবে নির্মিত। তাদের আচরণ, সংলাপ বলার ধরন এবং ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ আলাদা।’
তবে রাজকুমার হিরানির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে তিনি একেবারেই ভিন্ন বলে উল্লেখ করেন। ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ ও ‘লাগে রহো মুন্নাভাই’-এ ‘সার্কিট’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন আরশাদ। তিনি বলেন, ‘রাজুর কমেডি অন্য সবার মতো নয়। তার গল্পগুলো অনেক বেশি স্বাভাবিক, বাস্তবধর্মী এবং মানবিক। এমন একটি দৃশ্যও তিনি হাস্যরসে ভরিয়ে তুলতে পারেন, যেটি চাইলে পুরোপুরি গম্ভীর নাটক হিসেবেও উপস্থাপন করা যেত। খুব গুরুতর একটি মুহূর্তেও তিনি এমন সূক্ষ্ম হাস্যরস যোগ করেন, যা দৃশ্যটির আবহই বদলে দেয়। এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।’
তিনি জানান, ‘প্রিতম অ্যান্ড পেদ্রো’ সিরিজেও দর্শক এই ধরনের কমেডির স্বাদ পাবেন। ‘সেখানে একটি গুরুতর ডাকাতির ঘটনা ঘটছে, কিন্তু একই সময়ে এমন কিছু বাস্তব ও অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা দর্শকের মুখে অজান্তেই হাসি এনে দেবে’, বলেন তিনি।
এক চরিত্রের জনপ্রিয়তাকে অন্য চরিত্রে ব্যবহার করার প্রবণতারও বিরোধিতা করেন আরশাদ। তার মতে, একজন অভিনেতার কাজ নিজের ছাপ বসানো নয়, বরং লেখক ও পরিচালকের কল্পনায় চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তোলা।
তিনি বলেন, ‘সার্কিট, গোপাল কিংবা মাধব—প্রত্যেকের হাস্যরস আলাদা। এটা আমি ইচ্ছা করে বদলাই না। চরিত্র যেভাবে লেখা হয়েছে এবং পরিচালক যেভাবে কল্পনা করেছেন, ঠিক সেভাবেই অভিনয় করতে হয়। সেখান থেকেই স্বাভাবিকভাবে হাস্যরস বেরিয়ে আসে।’
এরপরই স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি গোলমালে সার্কিটকে এনে অভিনয় করতে পারি না। সেটা একেবারেই মানাবে না। সংলাপ মিলবে না, মানসিকতা মিলবে না, চরিত্রের সংবেদনশীলতাও মিলবে না। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব একটি জগৎ আছে। সেই জগতের নিয়ম মেনেই অভিনয় করতে হয়। সেটিকে নষ্ট করা উচিত নয়।’
সাক্ষাৎকারে ওঠে আসে ‘লাগে রহো মুন্নাভাই’-এর শুটিংয়ের একটি মজার স্মৃতিও। রাজকুমার হিরানি জানান, ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ মুক্তির প্রায় তিন বছর পর যখন ‘লাগে রহো মুন্নাভাই’-এর শুটিং শুরু হয়, তখন প্রথম দিনের অভিনয়ে আরশাদের মধ্যে তিনি পরিচিত ‘সার্কিট’কে খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
পরে আরশাদ নিজের ভ্যানিটি ভ্যানে গিয়ে ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’-এর ডিভিডি থেকে প্রায় আধঘণ্টা নিজের অভিনয় দেখেন। এরপর আবার শুটিংয়ে ফিরে এসে আগের সেই পরিচিত ছন্দ ফিরে পান।
এই স্মৃতি প্রসঙ্গে আরশাদ বলেন, ‘আমি কাজ শেষ হওয়ার পর চরিত্রটাকে পুরোপুরি ভুলে যাই। এরপর পরের চরিত্রের জন্য মন একেবারে খালি করে ফেলি। নতুন চরিত্রে ঢুকতে হলে আগের চরিত্রের সবকিছু ঝেড়ে ফেলতে হয়।’
নতুন সিরিজে পেদ্রো গনসালভেস নামের এক অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা যাবে আরশাদ ওয়ার্শিকে। প্রযুক্তির প্রতি তার অনীহা প্রবল। শাস্তিমূলক বদলিতে তাকে সাইবার সেলে পাঠানো হয়, যেখানে তার সঙ্গী হন প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ বিশেষজ্ঞ প্রিতম, এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বীর হিরানি। অন্যদিকে চতুর সাইবার অপরাধীর ভূমিকায় রয়েছেন বিক্রান্ত ম্যাসি। একটি উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর অপহরণকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে প্রজন্ম ও চিন্তার পার্থক্য ভুলে এ অসম জুটিকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।










