বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যাচ্ছে দেশের সিনেমা। এ তালিকায় রয়েছে শিশুতোষ সিনেমা ‘‌আম-কাঁঠালের ছুটি’। ছোটগল্প অবলম্বনে শিশুতোষ ঘরানার এ সিনেমা নির্মাণ করেছেন মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। নতুন খবর হলো রাশিয়ার চেবাক্সারি আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ষোড়শ আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নিচ্ছে আম-কাঁঠালের ছুটি সিনেমাটি।

২৬ মে শুরু হচ্ছে চেবাক্সারি আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। উৎসবের পর্দা নামবে আগামী ১ জুন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নৃ-তত্ত্ব ও আঞ্চলিক স্বকীয়তার প্রতিনিধিত্ব করা চলচ্চিত্র নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে এ উৎসব। ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত থাকার জন্য রাশিয়ান ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে আম-কাঁঠালের ছুটি সিনেমার নির্মাতাকে। ষোড়শ চেবাক্সারি আন্তর্জাতিক ফিল্মে যোগ দিতে আজ সকালে মস্কোর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন মোহাম্মদ নূরুজ্জামান।

সত্তর-আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকে যারা শৈশব-কৈশোর পার করেছেন তাদের সে বয়সের যাপিত জীবনের নস্টালজিক আবহে তৈরি এ সিনেমা। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক পরিবেশ আর নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের পরিচয় করে দিতেই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন বলে জানান মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। এর আন্তর্জাতিক সংস্করণের নামকরণ করা হয়েছে সামার হলিডে। কারো সঙ্গে মিশতে না পারা আট বছর বয়সী একটি শহুরে ছেলে গ্রীষ্মের ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে এসে কীভাবে নতুন এক জগৎ আবিষ্কার করে, খুঁজে পায় বন্ধুত্ব্ব আর রোমাঞ্চের স্বাদ, এ নিয়েই পূর্ণদৈর্ঘ্য এ চলচ্চিত্র। 

সিনেমাটি নিয়ে বণিক বার্তাকে নূরুজ্জামান বলেন, ‘‌আম কাঁঠালের ছুটি আমার প্রথম সিনেমা। ২০১৫ সালে আমি এ সিনেমার কাজ শুরু করেছিলাম, তখন আমার মেয়ের বয়স ছয় বছর ছিল। বর্তমান সময়ের শিশুরা, বিশেষ করে যারা শহরে থাকে, তারা অনেকটা বন্দি জীবন কাটায়। আমার কাছে মনে হয়েছিল আমাদের শৈশবটা কেমন ছিল, সেটা আমার মেয়েকে দেখাই। সে ভাবনা থেকেই সিনেমাটি নির্মাণ। আমাদের শৈশবের গল্প নিয়েই এ সিনেমা। আমার ছোটবেলার বন্ধু শরীফ উদ্দিন সবুজের বই থেকেই এটি নির্মাণ করা। কারণ, বইটা পড়ার পর মনে হচ্ছিল আমাদের ছোটবেলার সব চরিত্র আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম। এমনকি এ গল্পে আমার চরিত্রও আমি খুঁজে পেয়েছি। সিনেমাটি ফের একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।’

গত ২৬ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত জগজা নেটপ্যাক এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আম-কাঁঠালের ছুটি সিনেমার ইন্টারন্যাশনাল প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ উৎসবে এশিয়ান পারসপেক্টিভ বিভাগে সিনেমাটির আরো একটি প্রদর্শনী হয়েছিল। 

এছাড়া চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে সিনেমাটি বিনা কর্তনে সেন্সর পায়। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আগামী ২১ জুলাই এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। দেশের দর্শকদের জন্য সে হিসেবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে চলচ্চিত্রটির প্রমোশনাল টিম।

গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় চলচ্চিত্রটির দৃশ্য ধারণ করা হয়। প্রযোজনা ও পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা ও সাউন্ড ডিজাইন করেছেন মোহাম্মদ নূরুজ্জামান নিজেই। এ সিনেমার প্রধান সহকারী পরিচালক ছিলেন ‘আদিম’খ্যাত নির্মাতা যুবরাজ শামীম। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জুবায়ের, লিয়ন, আরিফ, হালিমা, তানজিল, ফাতেমা ও কামরুজ্জামান কামরুল।