শিল্পী নাজিব তারেকের ‘অ্যানিবডি ক্যান ডু ইট, প্লিজ ডু ইট...’ শীর্ষক একক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর আজ শেষ দিন। শিল্পী ও শিল্প সমালোচক মোস্তফা জামানের সংকলনে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয় গত ২৯ নভেম্বর। রাজধানীর লালমাটিয়ার দ্বীপ গ্যালারিতে ১৬ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ‘অ্যানিবডি ক্যান ডু ইট, প্লিজ ডু ইট...’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজক ছিল ১৮০ ডিগ্রি।

২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গ্র্যাফিক ডিজাইন বিভাগের অধ্যাপক মোহম্মদ ইউনুস এবং অঙ্কণও চিত্রায়ণ বিভাগের অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য। ‘অ্যানিবডি ক্যান ডু ইট, প্লিজ ডু ইট...’ শিরোনামটিকে নাজিব বাংলায় বলেন —‘বিমূর্ততার গাল গল্প’।

প্রদর্শনীতে নাজিব তারেকের সমসাময়িক বেশকিছু চিত্রকর্মসহ স্থান পেয়েছে বিভিন্ন সময় আঁকা বিচিত্র ফর্মের প্রায় ৮৭টি কাজ। বেশির ভাগ চিত্রকর্মই বিমূর্ত ধারার। এসব চিত্রকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলো, নীল পাখি, চোখ, দেহ ও মন, জমি ও জল, নির্মাণ ০ ০৩, নির্মাণ অ ৪৩, ট্রেনযাত্রা, নির্মাণ অ ০৭ রাতের বাগান, শিব, শিরোনামহীন ৪, আঁক কেটেছি আকাশে। চিত্রকর্মগুলো আঁকার ক্ষেত্রে শিল্পী জলরঙ, অ্যাক্রেলিক, প্যাস্টেল কয়েকটি মাধ্যম ব্যবহার করেছেন।

চিত্রকর্ম আঁকার ক্ষেত্রে প্রকৃতি, গঠন, প্রতিপ্রকৃতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এ শিল্পী। গতকাল যখন এ শিল্পীর চিত্রকর্ম দেখতে দ্বীপ গ্যালারিতে যাই, তখন তিনি কয়েকজন চিত্রশিল্পী এবং দর্শকের সঙ্গে আলোচনায় মেতেছিলেন। নাজিব তার বিমূর্ত ছবি আঁকার পেছনের গল্প শোনাচ্ছিলেন তাদের। তিনি বলছিলেন, তার তিন বছরের ছেলে বিপুল উচ্ছ্বাস কালিতুলিতে আঁকত কাগজ, মেঝে, বিছানার চাদর ও দেয়ালে। সেখান থেকেই মূলত বিমূর্ত ছবি আঁকার চিন্তা তার মাথায় আসে। এরপর তিনি বিমূর্ত চিত্র আঁকা শুরু করে দেন। শিল্পীর ভাষ্য, আমি তার মতো আঁকতে চাইছি, কিন্তু হচ্ছে কিনা? তিনি নিজেই এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, না। তার মতে, শিশু যেভাবে আঁকে, সেভাবে আঁকা সম্ভব হয় না। শিশুর সারল্য জলকালিতে যে নির্মাণ করে, তারই পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করে চলেছেন তিনি।

নাজিব তারেক একাধারে চিত্রশিল্পী, ছাপচিত্রী ও লেখক। তবে ছাপচিত্রী হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত। ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগে স্নাতক বর্ষে ভর্তি হন। নাজিব তারেক দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম অনলাইন গ্যালারি ‘জলরঙ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিল্পী। নাজিব তারেক শিল্পীদের মধ্যে নিউ মিডিয়াচর্চার পথিকৃৎ হিসেবে বিভিন্ন ভার্চুয়াল শিল্পপ্রকল্পচর্চার সূচনা করেন। ১৯৮৭ সাল থেকে শুরু করে তিনি দেশী-বিদেশী অনেক যৌথ একক ও প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন।

নাজিব তারেকের একক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীটি আজ শেষ দিনে চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।